
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ খুব শীঘ্রই বুলেট ট্রেন চালু করতে তৎপর রেল। বাণিজ্য়নগরী মুম্বই থেকে গুজরাটের অহমেদাবাদ পর্যন্ত চলবে এই হাই স্পিড ট্রেন। ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে এই রুটের ১২টি স্টেশন। চলছে সাজসজ্জায় কাজ। যা অনন্য সুন্দর করে তুলতে ফিনিশিং টাচ দিচ্ছেন শিল্পীরা। ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে স্টেশনগুলিকে অন্য আদলে সাজিয়ে তুলছেন তাঁরা।
বুলেট ট্রেন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড বা NHSRCL-র তরফে স্টেশনগুলির সাজসজ্জার আভাস দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্থার এক পদস্থ কর্তার কথায়, বিমানবন্দরের আদলে বুলেট ট্রেনের স্টেশন তৈরি করা হচ্ছে। আলাদা আলাদা থিমের উপর প্রতিটি স্টেশন সেজে উঠছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ সুরাট ও অহমেদাবাদ স্টেশনকে কেন্দ্র করে হতে চলেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
সুরাটঃ বুলেট ট্রেনের সুরাট স্টেশনের নাম রাখা হচ্ছে ডায়মন্ড সিটি। পশ্চিম ভারতের এই জায়গাটি অলঙ্কার শিল্পের জন্য বিখ্যাত। তাই ডায়মন্ড সিটি স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে চকচক করে হিরে। স্টেশনের ভিতরের থিম থেকে শুরু করে দেওয়াল -- সর্বত্রই হিরের চমক অনুভব করতে পারবেন যাত্রীরা।
সবরমতীঃ মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজড়িত জায়গায় গড়ে ওঠা স্টেশনটিতে থাকবে জাতির জনকের চরকা কাটার ছবি। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে চরকার গুরুত্ব অপরিসীম। সেটা স্টেশন জুড়়ে ফুটে উঠবে। একপাশে সাদা পাথরের উপর লেখা থাকছে সবরমতী আশ্রম প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও।
অহমেদাবাদ: অন্যদিকে ঘুড়ি দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে অহমেদাবাদ স্টেশন। মিল্ক সিটি নামে পরিচিত আনন্দ স্টেশনটির আবার থিম দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য। ভদোদরা স্টেশনে থাকছে বটবৃক্ষ। বয়ন শিল্পীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারুচ স্টেশনের থিম ভাবা হয়েছে। আর বিলিমোর স্টেশনে ঢুকলে আস্ত একটা আম বাগানের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি পাবেন যাত্রীরা।
মহারাষ্ট্রের স্টেশনগুলির ক্ষেত্রে পাহাড় ও তার সামনে সমুদ্রের জল আছড়ে পড়ার থিম ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে আবার মুম্বই স্টেশন তৈরি হয়েছে মাটির তলায়। তবে বাকি স্টেশনগুলি মাটির উপরেই তৈরি করা হয়েছে।বুলেট ট্রেনের সমস্ত স্টেশনে ওয়েটিং লাউঞ্জ, বেবি কেয়ার রুম, রেস্ট রুম এবং পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা টয়লেট রাখা হচ্ছে। এছাড়াও থাকছে ফুড স্টল ও বিজনেস লাউঞ্জের আলাদা জায়গা।
