
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ মদ্যপানের কু প্রভাব জানে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করলেও অনেকেই সেকথায় কর্ণপাত করছে না। অতিরিক্ত মদ্যপান করে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে মানুষ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অ্যালকোহল সেবনের প্রতি উন্মাদনা বাড়ছে তরুণ প্রজন্মের। এত কিছুর মধ্যেও এক গ্রাম যেন ব্যতিক্রম।
রাজস্থানের নাগৌর জেলার মাতাসুখ গ্রাম। শোনা যায় এই গ্রামের বাসিন্দারা মদ্যপান থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন। তাঁদের মতে, মদ্য পান করা মানে পয়সার অপচয়। তাই নেশার থেকে শতযোজন দূরে থাকেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামে মদ নিষিদ্ধ হওয়ার পিছনে এক ইতিহাসও রয়েছে। এক-আধ বছর নয়, ইতিহাসের পাতা ওলটালে জানা যায়, কয়েক হাজার বছর আগে জয়াল তেহসিল এলাকায় এই গ্রাম গড়ে ওঠার পর থেকেই মদ্য়পান নিষিদ্ধ। গ্রামবাসীরা কেউ মদের দিকে ফিরেও তাকান না। শোনা যায়, গ্রামবাসীরা মদ স্পর্শ করাকেও অপরাধ বলে মনে করেন। দিন দিন যেখানে মদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে মানুষ সেখানে মাতাসুখ গ্রাম যেন দৃষ্টান্ত স্বরূপ।
গ্রামবাসীরা মনে করে মদ্যপান পান শুধু যে স্বাস্থ্যের জন্যই খারাপ তাই নয়, গ্রামের কেউ জেনে বা না জেনে মদ স্পর্শ করলে সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। দীর্ঘ সময় ধরেই গ্রামবাসীদের বিশ্বাস মদ ছুঁলেই বাড়ি, পরিবার, কাজ সবকিছু ছাড়খাড় হয়ে যায়। আর এই বিশ্বাস থেকেই আজ পর্যন্ত গ্রামে কোনও মদের দোকান খোলা হয়নি।
গ্রামবাসীদের মদ না ছোঁয়ার পিছনে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস। এই গ্রামের বাসিন্দারাই জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিশ্বাস মদ্য়পান না করার পিছনে অন্যতম একটি কারণ। গ্রামবাসীরা শ্যাম বাবা ও সমনপীর বাবার পুজো করেন। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, যাঁরা মদ্য পান করেন তাঁদের ঈশ্বরও ক্ষমা করেন না। গ্রামে মদ নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ নেই।এই গ্রামের প্রচুর মানুষ প্রতি বছর অন্য রাজ্যে কাজ করতে ছোটেন। শোনা যায়, অন্য রাজ্যে গিয়েও মদ্য পানের থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন তাঁরা। নিজেদের অভ্যাস বদল করতে একেবারেই নারাজ।
