
নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট : কংগ্রেস বাধ্য হয়েই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। মঙ্গলবার লোকসভায় জানালেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। তিনি বলেছেন, "এই অনাস্থা প্রস্তাব সংখ্যা নিয়ে কখনই নয়, মণিপুরের জন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে। আমি প্রস্তাব পেশ করছি, এই সদন সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে। ইন্ডিয়া জোট মণিপুরের স্বার্থে এই প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। মণিপুর ন্যায়বিচার চায়।"
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই ‘ইন্ডিয়া’-র তরফে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে নোটিস জমা দিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। সেই সঙ্গে তেলঙ্গানার শাসকদল বিআরএসের হয়ে পৃথক ভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস জমা দিয়েছিলেন লোকসভার সাংসদ নামা নাগেশ্বর রাও। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানান, সেই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট ) আলোচনা শুরু হবে সংসদে। ১০ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবি বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মঙ্গলবার কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রীকে মেনে নিতে হবে, তাঁর ডাবল ইঞ্জিন সরকার, মণিপুরে তাঁর সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণেই মণিপুরে ১৫০ জন মারা গিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ত্রাণ শিবিরে রয়েছে এবং প্রায় ৬,৫০০ এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যার আলোচনার, শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করা উচিত ছিল, গত ২-৩ দিনে সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন।" গৌরব গগৈ আরও বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী সংসদে কথা না বলার জন্য 'মৌন ব্রত' নিয়েছেন। তাই তাঁর নীরবতা ভাঙতে আমাদের অনাস্থা প্রস্তাব আনতে হয়েছে। তাঁর কাছে আমাদের তিনটি প্রশ্ন রয়েছে, প্রথমত কেন তিনি আজ পর্যন্ত মণিপুর সফর করেননি? দ্বিতীয়ত, কেন শেষ পর্যন্ত মণিপুর নিয়ে কথা বলতে প্রায় ৮০ দিন লেগেছিল এবং যখন তিনি কথা বলেছিলেন তা মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য ছিল? তৃতীয়ত, কেন প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করেননি?"
