Breaking News
 
Mamata Banerjee: “বঙ্কিমচন্দ্রকে বঙ্কিমদা বলা অসম্মান” — কোচবিহারে তীব্র আক্রমণ মমতার Mamata Banerjee: “যুদ্ধ যখন বাঁধে, সবাইকে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে লড়াই করতে হয়”— কোচবিহারের জনসভায় দলীয় ঐক্যের ডাক মমতার Mamata Banerjee: শ্রমিকদের স্বার্থে লড়াই, কাগজ ছিঁড়ে নতুন শ্রমকোডের প্রতিবাদে মমতা Mamata Banerjee: বাংলায় হবে না এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প, সোনালি বিবি প্রসঙ্গে কোচবিহারে জনসভা থেকে জোরালো বার্তা মমতার Donation for Humayun Kabir’s Babri Masjid in Murshidabad: বাবরি মসজিদে অনুদানের জোয়ার! দানবাক্সে টাকার পাহাড়, যন্ত্র চলছে দিনরাত—নগদ ও অনলাইন মিলিয়ে মোট কত টাকা জমা পড়ল? Goa night club fire: গোয়ার নৈশক্লাবে পার্টির মাঝেই ফাটল সিলিন্ডার, আগুনে পুড়ে মৃত অন্তত ২৫

 

Country

3 weeks ago

Delhi Blast: সরকারি চাকুরের মেয়ে চিকিৎসক শাহিন, বিবাহবিচ্ছেদের পর জইশ-এ যোগদান, ধৃত জঙ্গি কাজ করত মাসুদের বোনের নির্দেশে

Dr Shaheen Shahid
Dr Shaheen Shahid

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার বাইরে বিস্ফোরণের (Delhi Blast) ঠিক আগের দিন লখনউ (Lucknow) থেকে এক মহিলা চিকিৎসককে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ (Firearms) গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত ওই চিকিৎসকের নাম শাহিন সিদ্দিকি।তদন্তকারীরা মনে করছেন, শাহিন এবং তাঁর সঙ্গী, চিকিৎসক মুজ়াম্মিল শাকিলের সঙ্গে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের সরাসরি যোগ থাকতে পারে।অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি চাকুরের কন্যা, পেশায় চিকিৎসক শাহিন কীভাবে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) মতো সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের মহিলা শাখার 'অন্যতম প্রধান' হলেন, তা নিয়ে তদন্তকারী মহলেও চরম কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এই যোগসূত্রের জট খুলতে শুরু করেছে তদন্ত।

গত সোমবার জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখার (এটিএস) যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হন শাহিন। তার আগে ফরিদাবাদে একটি বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। উদ্ধার হয় ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক এবং বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র। ২০টি বোমার টাইমার, রিমোট এবং ওয়াকিটকিও ছিল ওই বিস্ফোরকের সঙ্গে। সেখান থেকে উঠে আসে ওই মহিলা চিকিৎসকের নাম। তাঁর গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মেলে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল। বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে থাকা মহিলা চিকিৎসকের সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে ‘চমকপ্রদ’ কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ এবং গোয়েন্দারা।

পুলিশ সূত্রে খবর, একদা কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপনা করতেন শাহিন। তবে চাকরি করতে করতেই ২০১৩ সালে আচমকা উধাও হয়ে যান। এর প্রায় ৮ বছর পর ২০২১ সালে চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করেন মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, শাহিনের ডাক্তারি পড়াশোনা ইলাহাবাদ (বর্তমানে প্রয়াগরাজ) থেকে। বছর ২৫ আগে ডাক্তারি পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পান। কর্মস্থল ছিল কানপুরের জেএসভিএম মেডিক্যাল কলেজ। কিন্তু ২০২১ সালে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০০৯-’১০ সালে এক বার কনৌজের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বদলি হয়েছিলেন শাহিন। ২০১৩ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষকে কিছু না জানিয়েই ছুটিতে চলে যান শাহিন। তার পর আর তাঁকে কলেজের কেউ দেখেননি।

শাহিনদের আদি বাড়ি লখনউয়ের খান্ডারি বাজারে। বাবা সঈদ আনসারি বন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত চাকুরে। শাহিন বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। তাঁর দুই ভাই এবং এক বোন। মহারাষ্ট্রে জাফর হায়াত নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ওই চিকিৎসকের। কিন্তু দাম্পত্য সুখের হয়নি। ২০১৫ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। কানপুরের চাকরি ছেড়ে ফরিদাবাদ চলে গিয়েছিলেন শাহিন। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিছু দিন তিনি লখনউয়ে ছিলেন বটে, কিন্তু সেখান থেকেও হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান। মনে করা হচ্ছে, ওই সময়েই সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ওই চিকিৎসকের। শাহিনের প্রাক্তন স্বামীও পেশায় চিকিৎসক। তিনি জানিয়েছেন, প্রাক্তন স্ত্রী চেয়েছিলেন পাকাপাকি ভাবে বিদেশে থাকতে। স্বামী-সন্তান নিয়ে বিদেশে সংসার করতে চাইতেন। এ নিয়ে তাঁদের মনোমালিন্য হয়। হায়াতের কথায়, ‘‘আমাদের বিয়ে হয়েছিল দেখাশোনা করে। অনেক দিন হল ওর সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই। ও কিন্তু কখনওই আধ্যাত্মিক ছিল না। খুবই ধর্মনিরপেক্ষ। তবে আমাদের মতপার্থক্যের কারণ ছিল ওর বিদেশে থিতু হওয়ার ইচ্ছা। আমাদের দুই সন্তান। তারা বা আমি কেউই অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ যেতে চাইনি। এখন দুই সন্তান আমার কাছেই থাকে।’’ তিনি এ-ও জানান, শাহিন পালমোনোলজি-র অধ্যাপক ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি ডাক্তারি ডিগ্রি পান।

তদন্তে উঠে এসেছে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনিনের ভারতের প্রধান করা হয় ওই চিকিৎসককে। তিনি কাজ করতেন মাসুদ আজ়হারের বোন সাদিয়া আজ়হারের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে। লখনউয়ে যে বাড়িতে শাহিন থাকতেন, সেখান থেকে তাঁর ভাই পরভেজ আনসারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পরভেজও পেশায় চিকিৎসক। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর সন্দেহজনক নথি, হার্ড ডিস্ক এবং কয়েকটি মোাইল।জাতীয় তন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এই মামলার তদন্ত করছে। তারা শাহিনের অ্যাকাডেমিক রেকর্ড থেকে সমাজমাধ্যমের প্রোফাইল বা অ্যাকাউন্ট এবং বিদেশি-যোগের খোঁজখবর করছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, মূলত সমাজমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন শাহিন।

অন্য দিকে, সন্তানদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনোর যোগ রয়েছে, এ কথা বিশ্বাসই হচ্ছে না শাহিন-পরভেজের বাবার। তিনি জানিয়েছেন, বছর দেড়েক ধরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ নেই তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘আমরা পুলিশের কাছ থেকে ওর গ্রেফতারির খবর পাই। বিশ্বাস হচ্ছে না যে, মেয়ে এত পড়াশোনা করে এমন একটা পথ বেছে নিয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হতে চেয়েছিল ও। মানুষের সেবা করা ছিল ওর লক্ষ্য। ডাক্তার হয়ে সে মেয়েই কিনা মনুষ-হত্যার কাজে নাম লেখাল? বিশ্বাস হচ্ছে না।’’ প্রৌঢ় এ-ও জানান, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মেয়ে। ক্রমশ পরিবারের সকলের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।

You might also like!