
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজেপি সাংসদ প্রতাপ সিমহা রামলালার বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠার দিন গ্রামবাসীদের কাছে কার্যত গলাধাক্কা খেলেন। কর্নাটকের মাইসুরুর একটি মন্দিরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে গিয়ে চরম নাজেহাল হলেন তিনি। মাইসুরুর গুজ্জেগৌদানাপুরা গ্রামে দলিত চাষি রামদাস এইচ-এর জমিতে খনন করে মিলেছিল একটি বড় কালো পাথর। সেটা খোদাই করেই অযোধ্যার রামমন্দিরের রামলালার মূর্তি তৈরি করেছেন শিল্পী অরুণ যোগীরাজ। মাটির নীচ থেকে এমন একটা পাথর পাওয়ার পর ৭০ বছরের রামদাস জমিটাও দান করে দিয়েছিলেন। সোমবার সেখানেই মন্দির তৈরির জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান ছিল।
প্রতাপ সিমহার পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রী এসআর মহেশ এবং স্থানীয় বিধায়ক জিটি দেবগৌড়াও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাইসুরু-কোডাগু লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রতাপকে দেখে গ্রামবাসীরা রেগে যান।
সুরেশ নামে প্রাক্তন এক তালুক পঞ্চায়েত সদস্য বলেন, ‘গত ১০ বছরে আপনি একবারও গ্রামে আসেননি, এখন এসেছেন রাজনৈতিক কারণে। অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, এমনকী বিজেপি বিধায়করাও আগে এখানে এসেছেন, সমস্যার কথা শুনেছেন। কিন্তু আপনি কখনও এখানে আসার প্রয়োজনই বোধ করেননি। তাই এখনও আমরা আপনাকে এখানে চাই না।’
স্বামী হারোহাল্লি নামে এক গ্রামবাসীর কথায়, ‘গত বছর মহিষ দশেরার সময়ে প্রতাপ দলিতদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। প্রতাপের কারণেই আমাদের গ্রামের কয়েকজন গ্রেপ্তার হন। উনি কখনও আমাদের গ্রামে আসার প্রয়োজন বোধ করেননি, এখন লোকসভা ভোটের আগে আসছেন?’
দেবগৌড়া এবং অন্য নেতারা গ্রামবাসীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। চাপের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রাম ছাড়েন প্রতাপ। তাঁর অবশ্য দাবি, ‘কিছু দুষ্কৃতী ঝামেলা পাকিয়েছে, তারা কংগ্রেস কর্মী। কংগ্রেস লোকসভা ভোটে আমার কাছে হারবে বুঝেই এমন নাটক করছে। কিন্তু আমি এসবে ভয় পাই না।’
