
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: একসময় স্কুল পেরোনোর আগ পর্যন্ত মোবাইল ফোন পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রযুক্তির যুগে সেই ছবি অনেকটাই বদলে গেছে। এখন পড়াশোনার প্রয়োজনে ছোট বয়সেই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করছে অনেক পড়ুয়া। আর তার সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহারও। তবে অল্প বয়সেই সোশ্যাল মিডিয়া বা মেসেজিং অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেক অভিভাবক। সেই উদ্বেগের কথা মাথায় রেখেই নতুন উদ্যোগ নিল হোয়াটসঅ্যাপ।
খুদে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ একটি ফিচার চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই ব্যবস্থায় ১৩ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে সন্তানরা অ্যাপ ব্যবহার করলেও তাদের কার্যকলাপের উপর নজর রাখতে পারবেন বাবা-মায়েরা।হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, অভিভাবক-নিয়ন্ত্রিত এই অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। যেমন—এখানে চ্যানেল, স্টেটাস বা মেটা এআই ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ বা ‘ভিউ ওয়ান্স’-এর মতো ফিচারও বন্ধ থাকবে। মূলত ব্যক্তিগত চ্যাট এবং গ্রুপে বার্তা পাঠানো ও গ্রহণ করার সুবিধাই থাকবে এই অ্যাকাউন্টে। এই ধরনের টিন এজ অ্যাকাউন্ট চালু করতে হলে অভিভাবক ও সন্তানের ফোন একসঙ্গে থাকতে হবে। প্রথমে অভিভাবকের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সন্তানের ডিভাইসে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এরপর দুটি অ্যাকাউন্ট পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। ফলে সন্তানের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের উপর নজরদারি করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পিন বা প্রাইভেসি সেটিংসও পরিবর্তন করতে পারবেন অভিভাবকেরা।
সন্তান ১৩ বছর বয়স পার করলে কী হবে সেই অ্যাকাউন্টের? সে ক্ষেত্রেও ভাবনার কিছু নেই। নির্দিষ্ট সময় হলে হোয়াটসঅ্যাপের তরফেই ‘কিড অ্যাকাউন্ট’ থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড অ্যাকাউন্ট’-এ রূপান্তরের নোটিফিকেশন পাঠানো হবে। সেই পরিবর্তনে সম্মতি দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের হাতে থাকবে প্রায় ১২ মাস সময়। ডিজিটাল যুগে শিশুদের নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ দিতে এই নতুন ফিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
