
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকালে আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সেক্টর ফাইভে সংস্থার অফিসে হানা দেয় ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ অনুযায়ী, লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে প্রবেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ছিলেন, কিন্তু বের হওয়ার সময় তাঁর হাতে দেখা যায় কিছু ফাইল, হার্ড ডিস্ক এবং একটি ল্যাপটপ।
মুখ্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই এই ইডি অভিযান চালানো হয়েছে। মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার আইটি দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার। নটি হোম মিনিস্টার।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতীকের কাছ থেকে দলের কিছু ফাইল এবং হার্ড ডিস্ক নিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল নেত্রীর সাফ কথা, “এগুলি আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।” মমতার তোপ, “রাজ্যের কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোনও নথি ছাড়া ভোটারদের সন্দেহ করা হচ্ছে। দেশটাকে রক্ষা করতে পারে না। খালি ষড়যন্ত্র করছে।” মমতার প্রশ্ন, “আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আই প্যাক অফিসে হানা। আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই।”
প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর আগের ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনায় মিল পাওয়া গেছে, যখন পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে তল্লাশি হয়। তবে এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ধরনার পথে হাঁটেননি। দলের নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। রাজ্যের বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এটি অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। আই প্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা, কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। সংবিধান মেনে তদন্ত হওয়া উচিত।” রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মমতার উপস্থিতি ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার, এবং ইডির অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
