সবুজবাজি র ধোঁয়া ও ধোঁয়াশা' নিয়ে সরব পরিবেশবিদরা

Environmentalists are all over the green firecrackers smoke
Environmentalists are all over the green firecrackers smoke

 


কলকাতা, ১৮ অক্টোবর  : দীপাবলি যাতে দূষণাবলিতে পরিণত না হয়ে আনন্দময় হয় সবার জন্যে, তা নিয়ে সরব হলেন পরিবেশবিদরা।

মঙ্গলবার তাঁদের তরফে জানানো হয়, “দীপাবলির উৎসবের সময় যত এগিয়ে আসে সারা দেশের প্রতিটি কোণ আলোক উদ্ভাসিত হবার অপেক্ষায় দিন গুনতে শুরু করে। তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে পরিবেশপ্রেমীদের মনের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠাও প্রহর গুনতে শুরু করে। প্রতিবারেই নিয়ম করে স্থানীয় প্রশাসন, মহামান্য ন্যায়ালয় এবং পরিবেশ সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিয়মাবলী প্রকাশ করা হয়। তাতে ধোঁয়া এবং শব্দ দূষণের মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়। আর এতে কমবেশি কাজ হয় কোথাও কোথাও, তবু নিষিদ্ধ বাজির ওপর একটা বাড়তি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা তো থাকেই বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠনের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই নিয়মের বেড়াজালে কিছুটা বিভ্রান্তির অবকাশ এল যখন বাজারে আনা হ'ল সবুজবাজি র ধারণা।

সবুজবাজি মানে পরিবেশ-বান্ধব বাজি। ব্যাস তখন আর পায় কে বাজি ব্যবসায়ীদের! এমনিতে পরিবেশ বান্ধব বাজি যেন একটি সোনার পাথর বাটি। বাজি পুড়বে তাতে ধোঁয়া হবে বাতাসে বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস ছড়াবে এতো একজন শিশুও বলতে পারবে। তবে হ্যাঁ এতে সাধারণ বাজির তুলনায় কম ক্ষতিকর এবং পরিমানেও প্রায় ৩০% কম রাসায়নিক দূষণ হবে এটুকুই স্বস্তি এই যা! মানে সেই দূষণ কিন্তু থাকলই।

পরিবেশবিদ সমীর বোস এ খবর জানািয়ে লেখেন, “সবুজবাজি র বিষয়ে দু চারটি কথা বলা খুব জরুরি। বলা হচ্ছে এই সবুজবাজির গবেষণা পরিচালনা করেছে জাতীয় পরিবেশ ও প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (নিরি)। তারা বিবৃতি দিয়ে বলছে, যে বাজিগুলি তারা তৈরি করেছে সেগুলি হল ফুলঝুরি, পেন্সিল, চকমকি, হাওয়াই, বোমা এবং চরকিবাজি। বলা হয়েছে এতে অ্যালুমিনিয়াম, বেরিয়াম, পটাসিয়াম নাইট্রেট ও কার্বন বর্জন করে দূষণ কমানো হয়েছে।” এর মধ্যে সবুজ শব্দবাজি বা বোমার শব্দমাত্রা রাখা হয়েছে ১১০ থেকে ১১৫ ডেসিবেলের মধ্যে। যদিও মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশিত শব্দমাত্রা মেনে রাজ্য দূষণনিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বলছে কোনমতেই শব্দ ৯০ ডেসিবেল যেন না ছাড়িয়ে যায়।ফলে একটা ধূসর অঞ্চল তৈরি হ'ল এখানেই।

এছাড়াও আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ'ল বেশিরভাগ বাজি কারখানা গুলির যথাযথ লাইসেন্স বা ছাড়পত্র ছাড়াই বাজি প্রস্তুত করার অবাধ সুযোগ।তাতে যেমন মনগড়া কোম্পানীর ছাপমারা বাজি বিক্রি হবে, যাদের কোন দায়বদ্ধতা না থাকার জন্য শব্দ ও ধোঁয়ার কোন মাত্রাই সেখানে মানা হবেনা।এদের প্যাকেটে যে 'কিউ-আর কোড' টি ছাপানো থাকবে সেটিও ভূয়ো হতে বাধ্য। কিন্তু এদের চিহ্নিত করে আটকানো যাদের কাজ তারা সারা বছর কতটা উৎসাহী তা সবাই জানে।

পশ্চিমবঙ্গের যে কটি সংস্থা বাজি প্রস্তুত করে তাদের মধ্যে মোট ১৩ টির লাইসেন্স আছে,বাকিদের নেই।আর তার মধ্যে সবুজবাজি তৈরি করার জন্য যে সার্টিফিকেট বা শংসাপত্র প্রয়োজন তা একটিরও নেই।তাতে বোঝাই যাচ্ছে আমাদের রাজ্যে সবুজবাজি এখন একটি ভাঁওতা বা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ বলেন, “বাজি ব্যবসায়ীদের একাংশও পরিবেশপ্রেমীদের পাশে দাঁড়ালেন না। বরং প্রশাসনের অবহেলার সুযোগ নিয়ে তারাই অনলাইন এর মাধ্যমে এই বেআইনি সবুজবাজি গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন, যা আটকানোর দায়িত্ব ছিল প্রশাসনের।” বুধবার এই সব বিষয় নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে আলোচনার আয়োজন করেছে সবুজমঞ্চ।


শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…