kolkata

1 month ago

Mamata Banerjee on Suvendu Adhikari: বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে তীব্র বাকযুদ্ধ, অনুপ্রবেশ বনাম ভিনরাজ্যে বাঙালি নিগ্রহ প্রসঙ্গে মুখোমুখি মমতা–শুভেন্দু

Mamata Banerjee on Suvendu Adhikari
Mamata Banerjee on Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তীব্র বাদানুবাদে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের অনুপ্রবেশ ইস্যু তুলে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে গিয়ে পালটা আক্রমণের মুখে পড়েন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর নিগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বৃহস্পতিবার ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃতীয় সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন। দস্তুর মেনে অধিবেশনের শুরুতেই সূচনা ভাষণ দেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে সেই ভাষণের আগেই বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের স্লোগান-পালটা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। রাজ্যপালের ভাষণের পর ধন্যবাদজ্ঞাপন বক্তৃতাতেও সেই উত্তাপ বজায় থাকে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তৃতায় রাজ্যপালের সংক্ষিপ্ত ভাষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিধানসভায় রাজ্যপাল পুরো ভাষণ পাঠ করেননি এবং ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সংক্রান্ত অংশে গিয়ে থেমে যান। শুভেন্দুর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লেখা বক্তব্য পড়তে না চাওয়ার কারণেই রাজ্যপাল মাত্র সাড়ে চার মিনিটে ভাষণ শেষ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্য সরকারকে খোঁচা দেন শুভেন্দু। বলেন, “অনুপ্রবেশ সমস্যায় ডেমোগ্রাফি বদল হচ্ছে। ৮ বার স্বরাষ্ট্রসচিব চিঠি দিয়েছেন সীমান্তে বেড়া দিতে জমি চেয়ে। কাঁটাতার দেওয়া যায়নি জমি সমস্যার কারণে। বিরোধী দলের সাংসদ বিধায়করা আক্রান্ত হচ্ছেন। বিরোধী দলকে কর্মসূচি করতে আদালতে যেতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী নেত্রী ছিলেন। তিনি কতবার আদালতে গিয়েছেন? আমি তাঁর সঙ্গে ২১ বছর ছিলাম। তাই জানি।” 

শুভেন্দুর বক্তব্যের পর রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন বক্তৃতা করতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা জবাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “শুধু অনুপ্রবেশকারী কথাটাই বিরোধীদের মাথায় ঢুকেছে। আর কিছু নেই মাথায়। অন্য রাজ্যে কেন বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে? মারধর, নিগ্রহ, খুন চলছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, রাজস্থান, গুজরাট, সর্বত্রই এই অত্যাচার চলছে।” মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন বাঙালিদের নিগ্রহ করা হয়, তখন কোথায় থাকেন আপনারা? কেন বিরোধিতা করেন না? সরকারি উদ্যোগের পক্ষে একটাও কথা কেন বলেন না?” এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “আগে বাইরে থেকে কেউ এলে রেল, এভিয়েশন (অসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষ), বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য শেয়ার করত রাজ্যকে। কিন্তু গত কয়েক বছর কেন করা হয় না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বারবার বলার পরেও কথা শোনা হচ্ছে না। আর সীমান্তে জমির কথা বলছেন? অনেক প্রকল্পে অনেক জমি দিয়েছি। তার কী কাজ হয়েছে, সেটা বলুন। বিএসএফ-কেও তো আগে জমি দিয়েছি।” সব মিলিয়ে বাজেট অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে বিধানসভায় যে রাজনৈতিক সংঘাত দেখা গেল, তা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। 

You might also like!