
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শান্তিনিকেতনে এইমসের আদলে মেডিক্যাল কলেজ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বভারতী। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশা খুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’ ঘিরে ইতিমধ্যেই আশাবাদী বীরভূমবাসী, পাশাপাশি উৎসাহ বাড়ছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যেও। তবে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে জাতীয় মেডিকেল কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদনের উপর।
এই প্রসঙ্গে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, “বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একত্রিতকরণ করেই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার। ইতিমধ্যেই প্রাথমিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। তবে পরিষেবা উন্নত মানের চিকিৎসা পাবেন সর্বস্তরের মানুষ। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারাও সমৃদ্ধ হবেন।”
প্রসঙ্গত, বোলপুর-শান্তিনিকেতন জুড়েই বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে দিনের পর দিন মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় চলে যেতে হয়েছিল চিকিৎসার জন্য৷ এছাড়া, আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন শান্তিনিকেতনে বহু প্রখ্যাত মানুষের বসবাস। দেশ-বিদেশের মানুষ বেড়াতেও আসেন শান্তিনিকেতনে। অথচ উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা না থাকায় শেষ জীবনে শুধু চিকিৎসার জন্য শান্তিনিকেতন ছাড়তে বাধ্য হন অনেকেই। অতীতে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ছাড়াও তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বোলপুরের লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ-সহ অনেকেই চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় শেষ জীবনে শান্তিনিকেতনে ঠাঁই হয়নি। এ নিয়ে অনেক আক্ষেপ রয়েছে কবি সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সমাজের প্রবাদ প্রতীমদের। এমনকি, কোভিড পরিস্থিতির সময়েও চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকদেরও। ফলে বিশ্বভারতীর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠলে চিকিৎসা পরিষেবার উন্নতির আশা দেখছেন পড়ুয়া, প্রাক্তনী, প্রবীণ আশ্রমিক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর মুকুটে নতুন পালক যোগ হতে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিশ্বভারতীর অধীনে থাকা পিয়ার্সন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতালকেও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন মিললেই শান্তিনিকেতনে শুরু হতে পারে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পঠনপাঠন। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন জানিয়েছে বিশ্বভারতী। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া ও আশ্রমিকরাও।
