
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছের প্রয়োজনীয়তা এখনো যারা বোঝে না,তারা ক্ষমার অযোগ্য। অভিযোগ, কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কাটা হলো অর্জুন গাছ। বন দফতর সূত্রে খবর, শো কজ় করা হচ্ছে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের আধিকারিকদের। কেন গাছ কাটা হয়েছে এ বিষয়ে সবিস্তারে জানতে চাওয়া হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএফও অনুপম খান বলেন, ‘‘ব্যাপক ভাবে বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে ওই এলাকায়। সেই সমস্ত গাছে কাটা হয়েছে যাতে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি প্রজাতির পাখিদের বসবাস ছিল। বন দফতরের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওই গাছ সরকারি জমিতে রয়েছে। গাছ কাটার কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।’’ এমন নির্মম ঘটনায় মর্মাহত সমস্ত পরিবেশ ও বৃক্ষ প্রেমী মানুষ।
জানা যাচ্ছে,মেচেদা থেকে কোলাঘাটের পথে ৪১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে আবাসন সংলগ্ন নয়ানজুলির ধারে ৫৫টি অর্জুন গাছ ছিল। এগুলোর ২৬টি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই গাছে চার প্রজাতির বক ছাড়া স্থায়ী বাসা ছিল হাজার দুয়েক পানকৌড়ির। পাখির বাসা যুক্ত গাছ কাটায় জেলা জুড়ে হইচই শুরু হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করেছে বন দফতর। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল রাজ কলেজের জুলজি-র বিভাগীয় প্রধান শুভময় দাস বলেন, ‘‘২০১৩ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত পানকৌড়ির বাসাবৈচিত্র নিয়ে আমরা কাজ করেছি। ওই গাছগুলোয় কয়েক দফায় লাগানো হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। ওই এলাকা ছিল আমাদের কার্যত মুক্ত পরিবেশের ল্যাবরেটরি। সেটি এমন নির্মম ভাবে ধ্বংস করা হবে ভাবতেই পারছি না।’’ অধ্যাপক শুভময় দাসের সঙ্গে আছে ওই কলেজের ছাত্ররা। শুরু হয়েছে ব্যাপক আন্দোলন।
গাছে বসবাসকারী প্রাণিকুল নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণার কাজ করছেন অধ্যাপক শুভময়। তিনি বলেন,২০২৩ সালে তাঁরা দেখেছেন ২৪০০ পানকৌড়ি ছিল গাছগুলোয়। ২০১৩ সালে তাঁরা কাজ শুরুর সময়ে পানকৌড়ির সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৩২টি। পানকৌড়ি ছাড়াও গাছগুলোয় যৌথ ভাবে বসবাস করে নাইট হেরন, নাইট জ়ার ও ক্যাটল ইগ্রেটের মতো বক। রাজ কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের তরফে পাখিদের আশ্রয় নষ্টের প্রতিবাদ করে বন দফতরকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি লিখেছেন শুভময়বাবুরা। হলদিয়ার পরিবেশ কর্মী মানিক ভুঁইয়া, শামীম আলি জানান, মেচেদা থেকে কোলাঘাটের যাওয়ার পথে নজরে পড়ত হাজার হাজার পাখি। পরিবেশ কর্মীদের দাবি পরিবেশ আদালতে যাওয়া উচিত বন দফতরের। পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএফও অনুপম খান বলেন, ‘‘কোনও মতেই রেয়াত করা হবে না।’’
যদিও গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক আধিকারিক অরিন্দম রাউত বলেন, ‘‘গাছ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাটেনি। কে বা কারা গাছ কেটেছে তা জানা নেই।’’ তবে সন্দিগ্ধ এলাকাবাসী। তারা মনে করছে গোপনে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ওই গাছগুলো কেটেছে।
