Breaking News

 

Kids’ Puja Safety: পুজোয় ছোটদের নিয়ে প্যান্ডেল হপিং? সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে মানুন কয়েকটি নিয়ম

Durga Puja Kids Safety Pandal Hopping Tips
Durga Puja Kids Safety Pandal Hopping Tips

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর ভিড়ে ঠাকুর দেখতে গিয়ে আনন্দের আতিশয্যে খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের অনিয়ম ছোটদের অসুস্থতার কারণ হতে পারে। কখনও ভিড়ের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়া, কখনও জলশূন্যতা, আবার কখনও রাত জাগার ক্লান্তি—সব মিলিয়ে সমস্যায় পড়তে পারে খুদেরা। তাই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্যান্ডেল হপিংয়ে বেরোনোর আগে শুধু ঘোরার পরিকল্পনা নয়, তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখা জরুরি। কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলেই অনেকটা নিশ্চিন্তে কাটবে পুজোর আনন্দ।

* ভিড়েই সবচেয়ে বেশি বিপদ— পুজোর মণ্ডপে ভিড়ের চাপে শিশুদের সামলে রাখা বেশ কঠিন। একটু অসাবধান হলেই হাত ছাড়িয়ে যেতে পারে খুদে। তাই ভিড়ের মধ্যে শিশুর হাত শক্ত করে ধরে রাখুন। খুব ছোটদের কোলে নেওয়াই ভালো। শিশু একটু বোঝার মত বয়সে পৌঁছলে, ওকে বুঝিয়ে বলুন, ভিড়ের মধ্যে কখনও কোথাও যেন একা না যায়। শিশুর পোশাকে অভিভাবকের ফোন নম্বর লিখে রাখতে পারেন। হারিয়ে গেলে যেন কোনও পুলিশকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্য চাইতে পারে, সেই বিষয়টিও আগে থেকে বুঝিয়ে দিন। ভিড়ের চাপে খুদের শ্বাস নিতে অসুবিধা হলে দ্রুত তাকে নিরাপদ, ফাঁকা জায়গায় সরিয়ে আনুন।

* জল খাওয়াতে ভুলবেন না— এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ছুটতে গিয়ে বড়দের মতো ছোটরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গরমে ঘাম হলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু খেলার আনন্দে বা ঠাকুর দেখার উত্তেজনায় শিশুরা অনেক সময় জল খেতে চায় না। তাই সঙ্গে জলের বোতল রাখুন এবং কিছুক্ষণ অন্তর জল খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিন। মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হোন। শিশু খুব নিস্তেজ হয়ে পড়লে বা জল খেতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* বাইরের খাবারে লাগাম— পুজোয় ফুচকা, রোল, চাউমিন বা নানা রকম ভাজাভুজির লোভ সামলানো ছোটদের পক্ষে কঠিন। তবে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার বা দীর্ঘক্ষণ খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা খাবার থেকে পেটের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। তাই খাবারের দোকান বাছাইয়ে সতর্ক থাকুন। শিশুর জন্য বাড়ির তৈরি খাবার সঙ্গে রাখুন। খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করানো জরুরি। বমি, পেটব্যথা বা ডায়েরিয়া শুরু হলে জোর করে ঘোরাঘুরি চালিয়ে যাবেন না।

* নতুন পোশাকে অস্বস্তি নয় তো?

পুজোর পোশাক সুন্দর হলেই চলবে না, হতে হবে আরামদায়কও। আঁটসাঁট পোশাক বা পায়ে ঠিকমতো না হওয়া নতুন জুতো দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে। আবহাওয়ার উপযোগী পোশাক ও আরামদায়ক জুতো বেছে নিন। শিশুর অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে কি না, বারবার বিরক্ত হচ্ছে কি না বা হাঁটতে কেন চাইছে না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে মণ্ডপ ঘোরার মাঝে বসে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।

* রাত জাগার ধকল— এক রাতেই সব মণ্ডপ ঘুরে দেখার পরিকল্পনা শিশুদের জন্য ক্লান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন খিটখিটে ভাব, অবসাদ ও মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর ঘুমের সময় মাথায় রেখে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করুন। খুব রাত পর্যন্ত বাইরে না থেকে দিনের বেলা বা সন্ধের দিকে বেরনোর চেষ্টা করুন। শিশুর চোখে ঘুম, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা বিরক্তি দেখা দিলে আরও মণ্ডপ দেখানোর জন্য জোর করবেন না।

* অসুস্থ শরীরে ঠাকুর দেখা নয়— শিশুর জ্বর, বমি, ডায়েরিয়া বা শরীর খারাপ থাকলে ভিড়ের মধ্যে ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন। অসুস্থ অবস্থায় বাইরে বেরলে শিশুর কষ্ট বাড়তে পারে, অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে। শ্বাসকষ্ট, নিস্তেজ ভাব, খিঁচুনি বা গুরুতর জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।

পুজোয় ছোটদের আনন্দটাই সবচেয়ে বড়। কিন্তু সেই আনন্দের জন্য তাদের শারীরিক স্বস্তি, ঘুম বা খাওয়াদাওয়ার সঙ্গে আপস করা ঠিক নয়। কতগুলি মণ্ডপ দেখা হল, তার চেয়ে বেশি জরুরি সন্তান সুস্থ ও নিরাপদে বাড়ি ফিরল কি না। একটু পরিকল্পনা আর সামান্য সতর্কতাতেই পুজোর আনন্দ হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।

শেয়ার করুন:

You might also like!