
কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর : অবশেষে ৩৪ ঘণ্টা পর আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা ঘেরাও তুলে নিলেন । ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সোমবার বিকেল থেকে কলেজের সভাপতি, সহ-সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন নার্সিং কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কলেজের ভেতরে ঘেরাও করে রাখে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে সবাইকে ঘেরাও করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়, যার বিরুদ্ধে নার্সিং স্টাফরাও বিক্ষোভ শুরু করে এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে নার্সিং সুপার ও ৩ শিক্ষিকাকে ছেড়ে দিলেও বাকিদের প্রশাসনিক ব্লকে আটকে রেখেছিলেন তাঁরা। প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই ব্লকের গেট খুলে দেওয়া হয়। মেডিকেলের অধ্যক্ষ সহ বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এখনও অনড় আন্দোলনকারীরা। দাবি না মানা হলে বুধবার দুপুর ২টো থেকে আমরণ অনশনের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা জানিয়ে দেন, আপাতত ঘেরাও তুলে নিচ্ছেন। দুপুর দুটো পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছেন। তার মধ্যে কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ সুনিশ্চিত করা-সহ তিনটি দাবি মেনে না নিলে আমরণ অনশনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনিকেত ধর বলেন, “আমরা অবস্থান তুলে নিচ্ছি। দুপুর ২টো পর্যন্ত সময় আছে। ২২ তারিখ নির্বাচনের যে তারিখ দিয়েছিলেন, প্রিন্সিপ্যাল রুমে আমাদের খুনের যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার তদন্ত চাই। দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। আমরা আমরণ অনশন পথে যাব।”
তবে এদিন শিক্ষার্থীদের ঘেরাও শেষ হতেই মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা রোগীদের পরিষেবা দিতে শুরু করেন । তবে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসলে বা কোনওভাবে আবার আন্দোলন শুরু হলে চিকিৎসা সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
