
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর দমদমে নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কলকাতা শহর ধীরে ধীরে বসতির শহরে পরিণত হয়েছে এবং পূর্বতন বামফ্রন্ট ও বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তিনি দাবি করেন, শহরের বহু বসতিতে অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শহরকে বসতিমুক্ত করার কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভোটের দিন নিয়ে সতর্কবার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল ভোটের দিনে কোনও ধরনের অশান্তি বা ‘গুন্ডাগিরি’ বরদাস্ত করা হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
অমিত শাহের অভিযোগ, এখানকার পুরসভা দেউলিয়া হওয়ার আগের মুহূর্তে রয়েছে। পুরসভার গাফিলতির কারণে শহরে একাধিক নোংরা জলের ঝিল তৈরি হয়েছে। মোতিঝিলও অসুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কারও কিছু যায় আসে না। ৫ মের পর দমদমের পুরনো গৌরব ফেরানো হবে। এদিন অমিত ফের একবার অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতি সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তোপ দেগেছেন। রাজ্যের শিল্পের সম্ভাবনা নিয়েও শাসকদলকে আক্রমণ করেছে অমিশ শাহ। তিনি জানিয়েছেন, আজ এক এক করে শিল্প পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ৬ হাজার প্রতিষ্ঠান রাজ্য ছেড়ে দিয়েছে। কারণ মমতার কাটমানির লোকেরা শিল্পের পিছনে উঠেপড়ে লেগেছে। শাহের হুঁশিয়ারি, ২৯ তারিখ ভোটের দিন যেন তৃণমূলের গুন্ডারা রাস্তায় বেরোবেন না। বেরোলে সমস্যায় পড়তে হবে।
এদিনের মঞ্চ থেকে একাধিক ইস্যুতে কংগ্রেসকেও তোপ দেগেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে ৩৭০ ধারা ও মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীকে ‘রাহুল বাবা’ বলে তোপ দেগে অমিত শাহ বলেন, অসমে কংগ্রেসের সবথেকে বড় হার হবে। তামিলনাড়ু ও পণ্ডিচেরীতে ডবল ডিজিট পেরোতে পারবে না। আর পশ্চিমবঙ্গে তো খাতাই খুলতে পারবে না তারা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিজেপি কলকাতা ও আশপাশের এলাকার বিকাশের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কাটমানি ও সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ হবে। মেট্রোর বিস্তার ৩ গুণ হবে। তিনি ফের একবার অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য হল, তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো। কিন্তু তাঁর সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় জন্মানো, বাংলায় কথা বলা, বাংলা মিডিয়ামে পড়া কেউই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
