Life Style News

2 days ago

Akshaya Tritiya Housewarming Rituals: অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশে বিশেষ শুভযোগ, জানুন বাস্তু অনুযায়ী কোন নিয়মগুলি মানবেন

Akshaya Tritiya Griha Pravesh Rituals
Akshaya Tritiya Griha Pravesh Rituals

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী অক্ষয় তৃতীয়া এমন এক শুভ তিথি, যেদিন কোনও মঙ্গলজনক কাজ শুরু করলে তার ফল দীর্ঘস্থায়ী ও অক্ষয় বলে মনে করা হয়। বাংলা বছরের বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি। তাই নতুন বাড়িতে গৃহপ্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য অনেকেই এই তিথিকেই বেছে নেন। ২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া পড়েছে রবিবার, ১৯ এপ্রিল। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই দিনে গৃহপ্রবেশ করলে জীবনে স্থায়ী সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ে। বিশ্বাস করা হয়, এই শুভ লগ্নে নতুন ঘরে প্রবেশ করলে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভ হয় এবং সংসারে ধন-সম্পদ ও ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়।

তবে শুধুমাত্র শুভ তিথি নির্বাচন করলেই হবে না, গৃহপ্রবেশের সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু নিয়ম মেনে চলাও অত্যন্ত জরুরি। যেমন—

১। শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ: আপনার রাশি এবং নক্ষত্র অনুযায়ী, পঞ্জিকা দেখে শুভ মাহেন্দ্রক্ষণ নির্দিষ্ট করে নেওয়া ভাল। সাধারণত, সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের মধ্যেই গৃহপ্রবেশের পূজা সম্পন্ন করা শ্রেষ্ঠ।

২। গণেশপূজা: যে কোনও শুভ কাজের শুরুতে বিঘ্নহর্তা গণেশের পুজো দেওয়া আবশ্যিক। গৃহপ্রবেশের আগে দরজার সামনে গণেশের মূর্তি বা ছবি স্থাপন করুন।

৩। লক্ষ্মী-নারায়ণ পূজা: অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশের অনুষ্ঠান করলে লক্ষ্মী-নারায়ণের পুজো করা প্রয়োজন। পরিবারে সুখ ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য মা লক্ষ্মী এবং ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ আরাধনা করা উচিত।

৪। লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি স্থাপন: গৃহপ্রবেশের পূজার সময় রুপোর ছোট লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি স্থাপন করুন। রুপো পবিত্রতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক। লক্ষ্মী ধন ও সমৃদ্ধির দেবী এবং গণেশ বিপদনাশকারী। উভয়ের একযোগে প্রতিষ্ঠার ফলে বাড়িতে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সমস্ত বাধা দূর হয়। লাল কাপড়ে সেই মূর্তি রাখুন এবং প্রতি দিন প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করুন।

৫। গৃহসজ্জা এবং প্রবেশবিধি:  * মূল দরজা হল ঘরের শক্তির প্রবেশদ্বার। সদর দরজায় টাটকা আমপাতা এবং গাঁদা ফুলের তোরণ লাগান। এর ফলে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হয়।

* নতুন ঘরে প্রবেশ করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যেন কোনও পুরুষ ঘরে আগে না প্রবেশ করেন। নতুন ঘরে প্রথমে কোনও মহিলার প্রবেশ করা শুভ। আপনার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে কোনও মহিলা সদস্য হতে পারেন, যেমন- মা, বোন, স্ত্রী। গৃহপ্রবেশের সময় তাঁকে অবশ্যই নারকেল, কাঁচা দুধ, গুড়, চাল এবং হলুদ নিয়ে ঘরে প্রবেশ করতে হবে।

* একটি তামার কলসিতে জল ভরে তাতে আম্রপল্লব এবং ডাব রেখে সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন। গৃহকর্তা এবং গৃহকর্ত্রীকে সেই মঙ্গলকলস হাতে নিয়ে ডান পা আগে ফেলে ঘরে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশকালে শঙ্খ বাজানো এবং উলুধ্বনি দেওয়া অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

* ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করতে এবং গ্রহদোষ খণ্ডন করতে অভিজ্ঞ পুরোহিত দিয়ে বাস্তুপূজা এবং নবগ্রহ হোম করানো জরুরি।

* পুজোর সময় পুরো বাড়িতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতিটি ঘর এবং মূল পূজাস্থলে ঘি অথবা কর্পূরের প্রদীপ দেখান। প্রদীপ দেখানোর ফলে ঘরের প্রতিটি কোণে ঐশ্বরিক আলো এবং ইতিবাচক শক্তি সঞ্চারিত হয়। তা ছাড়া রান্নাঘরে প্রদীপ দেখানো খাদ্য ও শস্যের সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ ভাবে শুভ।

* ঘরে প্রবেশের পর প্রথমেই রান্নাঘরে দুধ ফুটিয়ে নিন বা ক্ষীর-হালুয়ার মতো মিষ্টি খাবার তৈরি করুন। এই উপচার বাড়িতে সমৃদ্ধি এবং সুখ নিয়ে আসে।

* গৃহপ্রবেশের রাতে ঘর অন্ধকার রাখবেন না। অন্তত একটি প্রদীপ বা আলো সারা রাত জ্বালিয়ে রাখুন।

* বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে (অগ্নিকোণ) কর্পূর পোড়াতে পারেন যা পরিবেশ শুদ্ধ করে।

* গৃহপ্রবেশের পর অন্তত তিন দিন বাড়িতে আমিষ রান্না না করাই ভাল। বাড়ি যেন কখনওই সম্পূর্ণ খালি না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

উপরিউক্ত নিয়ম মেনে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে গৃহপ্রবেশ করলে শুধু নতুন বাড়িতেই নয়, নতুন জীবনেরও শুভ সূচনা হয়। তাই যাঁরা এই সময় নতুন ঘরে উঠতে চান, তাঁদের জন্য এই তিথি হতে পারে এক অত্যন্ত সৌভাগ্যজনক সুযোগ।  


You might also like!