
কলকাতা, ২০ ফেব্রুয়ারি : রাজ্যে ১০ হাজার শিক্ষকের প্রয়োজন বলে ঘোষণা হয়েছে। আর এদিকে ৪ লক্ষের কম পড়ুয়া এবার মাধ্যমিকে বসছে। এই অতিরিক্ত শিক্ষকের কী প্রয়োজন? কী লাভ? অর্থের অপচয় হচ্ছে।
সোমবার আদালতে এমনই মন্তব্য করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। রাজ্যের শিক্ষা দফতরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীকে আইনে বদল আনতে বলুন। খুব কম পড়ুয়া রয়েছে এমন স্কুলের পড়ুয়াদের কাছের কোনও স্কুলে পাঠিয়ে দিন। আর যেখানে বেশি পড়ুয়া রয়েছে, শিক্ষকদের সেখানে বদলি করুন।’’
এদিন তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি টাকায় নিজের সন্তানকে বেসরকারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা। ভালো কথা, কিন্তু নিজের স্কুলের সন্তানসম পড়ুয়াদের দিকে খেয়াল রাখছেন তো? কোনও পড়ুয়াকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, সে আপনাদের কাছ থেকে কী শিখেছে, সদুত্তর পাব তো? উত্তর আপনাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে তো?
২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। চলতি বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ৬ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৮ জন। যেখানে গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৭৫। কেন এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রায় চার লক্ষ কমেছে, উঠছে সেই প্রশ্ন। যদিও পর্ষদের দাবি, অতিমারির প্রভাবেই এমনটা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির জন্য করোনা অতিমারিকেই দায়ী করে আগেই মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অতিমারির প্রভাবেই এ রকম হয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় পরীক্ষা দিচ্ছে না, প্রস্তুতি নেই বলে। অনেক টেস্টে পাশ করেনি। যারা কোভিডের সময় অষ্টম-নবম শ্রেণিতে পড়ত, তারাই এ বছর পরীক্ষা দিচ্ছে। কোভিডের কারণে স্কুলে ক্লাস হয়নি। তারও প্রভাবে এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হতে পারে বলে মনে করছেন রামানুজ। যদিও এর পরেও প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি অতিমারির সময় অনলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হয়নি! আর সেই প্রসঙ্গেই এই বার প্রশ্ন তুলতে দেখা গেল বিচারপতি বসুকে।
