
সিউড়ি, ১৭ এপ্রিল : ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে সিবিআই। টানা ৬৫ ঘণ্টা জেরা শেষে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু ছেলের গ্রেফতারি বিন্দুমাত্র দুঃখ নেই বলে জানাচ্ছেন ধৃত তৃণমূল বিধায়কের বাবা। বীরভূমের সাঁইথিয়ার বাড়িতে বসে জীবনের বাবা বিশ্বনাথ সাহা ছেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। বরং ছেলের ভয়ে মুখ খোলার উপায় নেই বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ ছেলে জীবনকৃষ্ণ সাহা মারার হুমকিও দিয়েছেন তাঁকে। শুধু তাই নয় ছেলেকে ঘুষখোর বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমার থেকেও ঘুষ চেয়েছি্ল। ওঁর এটাই ভবিতব্য ছিল। জীবন গ্রেফতার হওয়ায় তাঁরা বেঁচেছেন!
বিশ্বনাথবাবুর দীর্ঘদিনের রেশন ডিলারের ব্যবসা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার এমনই ছেলে, যে নিজের বাপের কাছেও ঘুষ চাইত!’ বাবার কাছে কেন ঘুষ চাইবেন ছেলে? জীবনের বাবা জানিয়েছেন, মিড ডে মিলের একটি টেন্ডারে তিনি রেশন ডিলার হিসাবে দরপত্র দিয়েছিলেন। তাঁর নামও ছিল উপরের দিকে। সেই সময়ে জীবন নাকি তাঁর বাবাকে বলেন, টাকা দিতে হবে। তবেই টেন্ডার পাওয়া যাবে। নইলে কাঁচি হয়ে যাবে তোমার নাম।
বাবা রাজি হননি ছেলেকে ঘুষ দিতে। এদিন বিশ্বনাথবাবু বলেন, “আমি টাকা দিইনি বলে ওন্য একজনের থেকে টাকা খেয়ে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিল জীবন। এক সপ্তাহ আগে আমায় মার্ডার করারও হুমকি দিয়েছিল”। এমনকি রেশন ডিলারশিপের একটি লাইসেন্সও জীবন প্রভাব খাটিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর বাবার।
বাবা, বোন স্পষ্টই বলছেন, জীবন ছিলেন ক্ষতিকারক, বিষাক্ত। নাজেহাল করে ছেড়েছেন তাঁদের জীবন। জীবনের বাবা এও বলেন, ‘ওকে আমি আর আমার ছেলে বলে মনেই করি না। ওকে ত্যাজ্যপুত্র করেছি। আমার কাছে আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।’ বড়ঞা থেকে সাঁইথিয়া—জীবনের ঘনিষ্ঠরা বলছেন গত সাত-আট বছরে টাকার নেশায় বুঁদ হয়ে উঠেছিলেন জীবন। সবেতেই টাকা টাকা আর টাকা পেতে চাইতেন। হাইওয়ের ধারে জমি সংক্রান্ত ব্যবসাতেও ঢুকে পড়েছিলেন স্কুল মাস্টার জীবন।
