
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ নেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পল-সহ মোট পাঁচজন মন্ত্রী। তবে তখন দপ্তর বণ্টন করা হয়নি। সোমবার থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন শুরু হয়েছে। কোন মন্ত্রী কোন দায়িত্ব পেলেন, তা একনজরে জানানো হয়েছে।
নিশীথ প্রামাণিক – উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ
দিলীপ ঘোষ- পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, প্রাণী সম্পদ বিকাশ
অশোক কীর্তনীয়া- খাদ্যমন্ত্রী
অগ্নিমিত্রা পল-নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর, পুর বিষয়ক
ক্ষুদিরাম টুডু-আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী পর্যটন
বিভেদ ভুলে আরএসএস এক হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার দাবি তুলেছিলেন। প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভা যেন সেই ‘এক ভারত’ বার্তা। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নাম ঘোষণার পরই শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারী ‘আমি নয়, আমরা’ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছিলেন। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্রিগেডের মেগা শপথ মঞ্চে সেই একই অখণ্ডতার ছবি দেখা গিয়েছিল। ব্রিডেগে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়া ‘পঞ্চপাণ্ডবে’র মধ্যে কুড়মি থেকে মতুয়া আবার রাজবংশী –ছিলেন সকলেই। মহিলা প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পল। ছিলেন আরএসএস মতাদর্শের দিলীপ ঘোষও।
ছাব্বিশের ভোটের আগে রাজ্যে এসআইআর শুরু হয়। তাই মতুয়া ভোট তৎকালীন শাসক-বিরোধী সকলের কাছেই ছিল বড় ফ্যাক্টর। সেই মতুয়াগড়ই ঢেলে ভোট দিয়েছে বিজেপিতে। সেকথা মাথায় রেখে বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী অশোক কীর্তনীয়াকে মন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঠাকুরবাড়ির বাইরে বেরিয়ে বৃহত্তর মতুয়া সমাজকে আরও সংঘবদ্ধ করার লক্ষ্যেই অশোক কীর্তনীয়াকে মন্ত্রী হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে ‘কুড়মি ক্ষোভ’ ছিল তৃণমূলের বড় চ্যালেঞ্জ। ‘কিংমেকার’ কুড়মি সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে বাঁকুড়ার রানিবাঁধের ক্ষুদিরাম টুডুকে রাখা হয়েছে মন্ত্রিসভায়। উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। দলের দুর্দিনেও নিরাশ করেনি উত্তরবঙ্গ। রাজবংশীদের প্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক।
