
কলকাতা, ২২ ডিসেম্বর : নিয়োগ মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকায় ফের ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি জেলবন্দি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের জামিন মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকায় বিরক্ত কলকাতা হাই কোর্ট।
মামলায় বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বিরক্তি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি বলেন, সিবিআই কৌঁসুলিদের বারবার প্রশ্ন করেও সঠিক জবাব মিলছে না। সিবিআই আইনজীবীদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, আপনারা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে যান। তিনি সব বুঝিয়ে দেবেন। আপনাদের তদন্তকারী অফিসার কোথায়। আপনারা কিছুই করছেন না।
বুধবার বিচারপতি বাগচীর বে়ঞ্চই স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। তিনিও কল্যাণময়ের মতো একই মামলায় অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার সেটি লক্ষ্য করে বিচারপতি বাগচী বলেন, গতকাল আমরা একটা জামিন মামলা খারিজ করেছি। তাঁর সঙ্গে আজকের মামলার যোগ আছে কি না, জানতে চান বিচারপতি।
বিচারপতির অভিযোগ, সিবিআই আইনজীবীদের কাছ থেকে সঠিক জবাব পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, এমন তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে আমরা খুব দুঃখিত। পরে অবশ্য মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলে বিচারপতি নিশ্চিত হন, এই দুটি একই মামলা। এদিন অবশ্য বিচারপতি মামলা মুলতুবি ঘোষণা করেন।
বিচারপতির আরও মন্তব্য, “তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দয়া করে বসুন। বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন। বুধবারের মামলার সঙ্গে এই মামলার সংযোগ কী, সেটার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা চায় আদালত। সব কিছু এক ভাবে ধরলে হয় না।” আগামী ৪ জানুয়ারি অবধি মামলাটির শুনানি স্থগিত রাখা হয়।
প্রসঙ্গত, এসএসসি দুর্নীতি মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর টানা জেরার পরে গ্রেফতার করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি কল্যাণময়কে। ২০১০ সাল থেকে টানা প্রায় ১০ বছর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি থাকাকালীন শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতিতে কল্যাণময়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সিবিআই অভিযোগ করে। এর আগে বিশেষ সিবিআই আদালত এবং হাই কোর্টে কল্যাণময়ের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
