
কলকাতা, ১৮ মে : সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের ফুটবলে এখন নতুন ভোরের প্রতীক্ষা। গত বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারানো ব্লু সামুরাইরা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা এখন আর শুধু লড়াকু দল নয়, বরং জায়ান্ট কিলার। স্বাগতিকদের বাইরে প্রথম দেশ হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বিশ্বমঞ্চে বড় কিছুর বার্তা দিচ্ছে দলটি।
জাপানি ফুটবলের এই বদলে যাওয়ার কারিগর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তাঁর দর্শন আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খেলার ধরনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। জাপান এখন আর শুধু রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে না, বরং তাদের প্রেসিং এবং দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ শক্তিশালী রক্ষণভাগের জন্য আতঙ্কের কারণ। রিতসু দোয়ান, তাকেফুসা কুবো এবং কাওরু মিতোমাদের মতো তরুণেরা এখন ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, যা তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এবারের বিশ্বকাপে এফ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, তিউনিসিয়া এবং সুইডেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জাপানের লড়তে হবে। তবে বড় দুশ্চিন্তার নাম অধিনায়ক ওয়াতারু এনদো ও মিতোমার চোট। দুজনের ফিট হওয়ার অপেক্ষায় ক্ষণ গোনা ছাড়া আর উপায় নেই।
পরিসংখ্যান বলছে, জাপান বাছাইপর্বে ৩০ গোল করেছে এবং হজম করেছে মাত্র ৩টি। এই বিধ্বংসী ফর্মই বলে দিচ্ছে বিশ্বকাপে গোল করার জন্য তারা কতটা ক্ষুধার্ত। ১৯৯৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে তারা আর কখনো আসর থেকে বাদ পড়েনি। তবে প্রতিবারই শেষ ষোলোয় আটকে গেছে। ২০০২, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২—চারবার নকআউট পর্বে পৌঁছালেও কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নটি এখনো অধরাই আছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে শেষ মুহূর্তে হার কিংবা ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হার জাপানি ভক্তদের মনকে আজও হতাশ করে। ২০২৬ বিশ্বকাপে জাপানের লক্ষ্যটা হল—প্রথমবারের মতো শেষ আটের বাধা টপকানো। ২০১৮ সাল থেকে জাপানের প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন হাজিমে মোরিয়াসু। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি সানফ্রেচ হিরোশিমা ও জাতীয় দলের মাঝমাঠের খেলোয়াড় ছিলেন। কোচ হিসেবেও তিনি সফল। তাঁর অধীনেই হিরোশিমা তিনটি জে-লিগ শিরোপা জেতে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জাপানকে শেষ ষোলোয় নিয়ে গিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েন। খেলোয়াড়দের পরিচালনা এবং তরুণদের সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দারুণ পারদর্শী। তাঁর হাত ধরেই জাপানি ফুটবলে নতুন লড়াকু প্রজন্ম তৈরি হয়েছে।
দলের তারকা: তাকেফুসো কুবো:
খুব অল্প বয়সেই বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছেন তাকেফুসো কুবো। বার্সিলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে তাঁর ফুটবলের হাতেখড়ি। জাপানে ফেরার পর দুর্দান্ত কিছু পারফরম্যান্স তাঁকে রিয়াল মাদ্রিদের নজরে আনে। লা লিগার বিভিন্ন ক্লাবে ধারে খেলার পর কুবো শেষ পর্যন্ত রিয়াল সোসিয়েদাদে থিতু হন। মাঠে দ্রুতগতি, ক্ষিপ্রতা এবং ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে পড়ার সহজাত দক্ষতার কারণে কুবো বর্তমানে লা লিগার অন্যতম সেরা পারফর্মার। বিশ্বকাপে বড় সাফল্যের লক্ষ্যে থাকা জাপানের অন্যতম ভরসা তিনি।
বিশ্বকাপে জাপান:
**র্যাঙ্কিং: ১৮
**অংশগ্রহণ: ৮ বার
**সর্বোচ্চ সাফল্য: শেষ ষোলো (২০০২, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২)
বিশ্বকাপে জাপানের পারফরম্যান্স:
ম্যাচ ২৫, জয় ৭, ড্র ৬, হার ১২
বিশ্বকাপে জাপানের ম্যাচের সূচি:
**১৪ জুন, নেদারল্যান্ডস, ডালাস, রাত ২টা
**২১ জুন, তিউনিসিয়া, মন্তেরে,সকাল ১০টা
**২৬ জুন, সুইডেন, ডালাস, ভোর ৫টাl
