
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ জাল নথির মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছিল। সিবিআই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে অন্তত চার জনের বেআইনি নিয়োগ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই নথির মাধ্যমে কোনও পাকিস্তানি নাগরিক সেনাবাহিনীতে ঢুকেছেন কি না, তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
বিচারপতি সেনগুপ্তের এজলাসে বুধবার এই মামলার প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। সেখানে তারা জানিয়েছে, সেনাবাহিনীতে অন্য দেশের নাগরিক ঢুকে পড়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে, এমনকি, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তার গুরুত্ব রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ একাধিক রাজ্য থেকে জাল নথি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ হচ্ছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। এ বিষয়ে এক জন মহকুমাশাসক (এসডিও) সিবিআইয়ের আতশকাচের তলায় রয়েছেন। অভিযোগ, ওই জাল নথিতে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু তিনি স্বীকার করছেন না।
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সত্যিই পাকিস্তানি নাগরিক আছেন কি না, থাকলেও কী ভাবে এলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই সিআইডিকে প্রাথমিক ভাবে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। পরে হাই কোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা সিবিআইকেও বিষয়টি দেখতে বলেন। আদালতের বক্তব্য ছিল, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সিবিআই জানিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনাতেই এমন কিছু জাল নথি দ্বারা নিয়োগের প্রমাণ মিলেছে। কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীতেও এ ভাবে নিয়োগ হয়েছে। অভিযোগ, শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভিন্রাজ্যেও এই নিয়োগের নজির রয়েছে। সিবিআইয়ের দাবি, বিদেশি কোনও নাগরিক এই ধরনের জাল নথির মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়ে থাকতে পারেন। সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গোটা চক্রটিতে সরকারি আধিকারিকেরাও যুক্ত আছেন বলে দাবি।
এ প্রসঙ্গে বুধবার বিচারপতি সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ, এই রাজ্য সীমান্তবর্তী হওয়ায় কম নম্বরের মাধ্যমে এখানকার বাহিনীতে নিয়োগের একটা সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভিন্রাজ্যের নাগরিকেরা জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করে, চক্রের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়ছেন। দ্রুত তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।এর পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন যত দিন না সিবিআই এই তদন্তের রিপোর্ট দিচ্ছে, তত দিন মামলাকারী বিষ্ণু চৌধুরীর নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করবে রাজ্যের পুলিশ।
