
কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর : বৃহস্পতিবার জি ২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ভারত। এর জন্য সব দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আলোয় সাজানো হয়েছে দেশের ১০০ ঐতিহ্যবাহী ভবন। জি-২০ প্রতীক আলোকসজ্জার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে। এবারের জি-২০ প্রতীক একটি পদ্ম ফুল ও পৃথিবী। এ বার তার উদ্যাপনে পশ্চিমবঙ্গের চারটি, কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুটি স্থাপত্য সেজে উঠল আলোতে। কলকাতার দুটি হল কারেন্সি বিল্ডিং এবং মেটকাফ হল। এ ছাড়া আছে রায়গঞ্জ সার্কলের অধীন হাজার দুয়ারি এবং কোচবিহার রাজবাড়ি। ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এত ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য থাকা সত্বেও কেন মাত্র চারটি? এর উত্তরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) আঞ্চলিক সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার শুভ মজুমদার এই প্রতিবেদককে বলেন, “সেরকম ব্যাপার নয়। গোটা দেশে প্রায় ২৮টি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য আছে। সাজানোর ব্যাপারে সেগুলোকেই প্রথমে মনোনীত করা হয়। এরকম কোনও স্থাপত্য এই রাজ্যে নেই। এর পর মূলত পরিচিতি, দর্শক সমাগমের নিরিখে দেশের বিভিন্ন স্থানের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলোকে বিবেচনা করা হয়েছে। বাংলায় টেরাকোটার অপূর্ব মন্দির আছে ঠিকই তবে সেগুলোর ওপর অত আলো পড়লে ক্ষতি হতে পারে। “
প্রসঙ্গত, ১৯-শতকের গোড়ার দিকে বি-বা-দী বাগে (ডালহৌসি স্কয়ার) মূলত আগ্রা ব্যাঙ্কের কলকাতা শাখার জন্য ১৮৩৩ সালে নির্মিত হয় একটি ভবন। এখানে ১৮৬৮ সালে ব্রিটিশ রাজের অধীনে অবিভক্ত ভারতে মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কাজ হত। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত প্রথম কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করত। এখন এটি একটি সংগ্রহশালা। আর মেটকাফ হল ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের স্থাপত্য। হুগলি নদীর মুখোমুখি স্ট্র্যান্ড রোডের এই ভবনে রয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্থাপত্য শৈলীর প্রতিফলন। নকশায় প্রাচীন গ্রীক মন্দিরসমূহের আদল। নির্মিত হয় ১৮৪০-১৮৪৪ সালের মধ্যে। নামকরণ করা হয় ভারতের সমসাময়িক গভর্নর জেনারেল স্যার চার্লস টি মেটকাফের নামে। উনিশ শতকে ইতালীয়-শৈলীতে নির্মিত কর্নেল ডানকান ম্যাকলিওডের নকশায় তৈরি হয় মুর্শিদাবাদে হাজার দুয়ারি। ‘ভিক্টর জুবিলী প্যালেস’ নামে পরিচিত কোচবিহার রাজবাড়ি ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণের রাজত্বকালে তৈরি হয়। লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের আদলে এটি নির্মিত।
