
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সুদানে সেনাবাহিনীর দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক লড়াই শুরু হয়েছে। এটা এক ধরনের ক্ষমতা দখলের গৃহযুদ্ধ। সে দেশের সামরিক বাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের লড়াইকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। আহত দুই হাজার। নিহতদের একজন ভারতীয়। এবং অনেক ভারতীয় আহতের তালিকায় আছে বলেই খবর। নিহত ব্যক্তি কেরলের বাসিন্দা হলেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে কর্ণাটকের আসন্ন বিধানসভা ভোটের উপর।
আফ্রিকার এই দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত পরিস্থিতি এই মুহূর্তে কর্নাটকে ভোটের প্রচারে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কংগ্রেস ও জেডিএস। পরিস্থিতি সামাল দিলে দলের হয়ে আসরে নেমেছেন স্বয়ং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যিনি সচরাচর মুখ খোলেন না। সুদানে বিবদমান দুই গোষ্ঠী একে অপরের দিকে গোলা, রকেট, গুলি নিক্ষেপ করছে। এই গৃহ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কর্ণাটক বিজেপি ও বিরোধী দলগুলো আসরে নেমে পড়েছে। সুদানে গোলমালের সূত্রপাত তিন-চারদিন আগে। আচমকা সেনা বাহিনী প্রেসিডেন্ট প্যালেস, রেডিও ও টেলিভিশন ভবন, সংসদ ইত্যাদি থেকে আধা সেনাকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে মুখের কথায় তা সম্ভব হয়নি। তীব্র গুলির লড়াই, বিমান হানার পর পরিস্থিতি মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে খানিকটা শান্ত। দেশটির ইন্টারনেট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফলে ভারত তার প্রতিক্রিয়া খোলাখুলি জানাতে পারছে না।
শুধু ভরত নয়,পৃথিবীর অন্যান্য কয়েকটি দেশের মানুষও আছে হতাহতের তালিকায়। গোলমাল শুরুর দিনেই গুলিতে নিহত হন কেরলের বাসিন্দা অ্যালবার্ট। তারপরই জানাজানি হয়, কেরল নয়, কর্নাটকের বহু মানুষ আফ্রিকার ওই দেশটিকে কাজের সন্ধানে গিয়েছেন। অনেকেই পাকাপাকিভাবে বসবাস করছেন। তাদের অন্যতম কর্নাটকের হাক্কিপিক্কিস উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের পরিবার সূত্রে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের নামের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে যাদের সম্পর্কে ভারত সরকার কোনওরকম তথ্য দিতে পারছে না। তবে সব মিলিয়ে সে দেশে প্রায় আড়াই হাজার কন্নড়ভাষীর বাস। উপজাতি সম্প্রদায়টি আটকে পড়েছে একেবারে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায়। এই উপজাতি সম্প্রদায়কে নিয়ে শুরু হয়েছে ভারতে রাজনীতি। কর্নাটক কংগ্রেসের বষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই এবং বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি নিরীহ টুইটে লেখেন সুদানে আটকে পড়া কর্নাটকের বাসিন্দাদের দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। এর উত্তর দিতে দেরি করে নি বিজেপি। জবাবে জয়শঙ্কর লেখেন, ‘সিদ্ধারামাইয়া রাজনীতি করছেন। ভারত সরকার নিয়মিত সুদানের ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ভারতীয়দের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণেই জায়গাগুলির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।’ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জয়শঙ্কর আরও লেখেন, ‘আপনার টুইট দেখে আতঙ্কিত বোধ করছি। দয়া করে রাজনীতি করবেন না।’
তবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশ সুদানের গৃহযুদ্ধ প্রমাণ করে সে দেশের গণতন্ত্র কত পলকা। গণতন্ত্রকে মজবুত করা না গেলে সমূহ বিপদ। সুদানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে জানিয়েছে,ওই দেশে লুঠতরাজ শুরু হয়েছে। এখনই ঘর থেকে ভারতীয়দের বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। তারা চেষ্টা করছে দ্রুত ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর।
