
নিউইয়র্ক, ২৩ জুন : অভিযাত্রীরা হয়তো বেঁচে থাকতে পারেন, সেই আশায় চলছিল খোঁজ। নামানো হয়েছিল রোবটও। কিন্তু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পরেই সেই আশা শেষ হয়ে গেল। টাইটানিকের মতো অতলান্তিক সাগরের গভীরেই সলিল সমাধি হল নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ডুবোযান টাইটানের। ওই যানের সকল অভিযাত্রীকেই মৃত বলে ঘোষণা করল আমেরিকার উপকূল রক্ষী বাহিনী এবং টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে নিয়ে যাওয়া সংস্থা ‘ওশানগেট’।
টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে সমুদ্রের গভীরে নামার পর নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ডুবোযানের পাঁচজন অভিযাত্রীরই মৃত্যু হয়েছে বলে মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী জনিয়েছে। সমুদ্রতলের ২ মাইল নীচে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষে থেকে প্রায় ১৬-শো ফুট দূরে ডুবো যানটির পাঁচটি অংশ দেখতে পাওয়ার কথা গতকাল জানিয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল জন মগার। টাইটান নামে ওই ডুবোযানটির সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংযোগ গত রবিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরই সমুদ্রের অতলে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছিল মার্কিন নৌসেনা। জলরাশির প্রবল চাপই এই দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। দূরনিয়ন্ত্রিত একটি যানের সাহায্যে টাইটানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ মেলে।পাঁচজনের পরিবারের প্রতি মার্কিন তটরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ডুবোযানটিতে ছিলেন ব্রিটেনের কোটিপতি ব্যবসায়ী হামিশ হার্ডিং, পাকিস্তানের ব্যবসায়ী শাহজ়াদা দাউদ এবং তাঁর পুত্র সুলেমান, ওশানগেট সংস্থার মুখ্য আধিকারিক স্টকটন রাশ এবং ফরাসি নাবিক পল হেনরি নারজিওলেট। আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, সমুদ্রের গভীরে একেবারে ‘দুমড়ে মুচড়ে’ গিয়েছে ডুবোযানটি। ২২ ফুটের ডুবোযানটির পাঁচটি টুকরো হয়ে গিয়েছে। সেগুলিরও খোঁজ মিলেছে। কিন্তু পাঁচ অভিযাত্রীর দেহের কোনও হদিস মেলেনি। তাঁদের দেহ উদ্ধারের সম্ভাবনাও ক্রমে ক্ষীণ হয়ে আসছে বলেও জানিয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।
