
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ১৯৫০ সালে পুত্র গৌতমের জন্মের বছরেই মহানায়ক উত্তমকুমারের ইচ্ছায় ভবানীপুরের গিরিশ মুখার্জি রোডে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে শুরু হয়েছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। সেই সময় থেকেই বাড়িতে পুজো ঘিরে থাকত এলাহি আয়োজন। বছরের পর বছর ধরে সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেছে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি, আগের মতোই নিষ্ঠা ও আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে লক্ষ্মীপুজোর। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় মহানায়কের বাড়িতে হাজির হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাড়িতে প্রবেশের আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের বক্তব্য জানান তিনি।
লক্ষ্মী পুজো আর নাড়ু একে অপরের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। মা লক্ষ্মীর আরাধনার দিন মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও নাড়ুর গল্প। গুড়ের নাড়ু নাকি সাদা নাড়ু, কোনটা পছন্দ শুভেন্দু অধিকারীর? হাসি মুখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুটো নাড়ুই আমার ভীষণ পছন্দ। সেই সঙ্গে তিলের নাড়ুও খুব ভালোবাসি।” লক্ষ্মী পুজোর ভোগ মানেই খিচুড়ি। প্রতিটি বাঙালির ঘরে মা লক্ষ্মীকে খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়। কর্মব্যস্তজীবনে সেই খিচুড়ি ভোগ খাওয়ার সুযোগ হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর? অকপট স্বীকারোক্তি, “খিচুড়িটা এখনও খাইনি। ওটা নিজের বাড়ির জন্য তুলে রেখেছি। আমার বাড়িতেও পুজো হয়। বাড়ি গিয়ে খিচুড়ি ভোগ খাব।” ধনদেবীর আরাধনার দিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য় কী প্রার্থনা করলেন? একটাই প্রার্থনা, “বাংলা সমৃদ্ধশালী হোক। বাংলায় আরও অনেক শিল্প আসুক। ব্য়বসায় উন্নতি হোক, যুবসমাজের জন্য কর্মক্ষেত্র প্রসারিত হোক, কৃষকভাইদের আরও ভালো ফসল ফলুক।”
মহনায়কের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আরও একটি বিষয় নিশ্চিত করেছেন, “আমরা যে সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রতি দিয়েছি সেটাই হবে। এই সোনার বাংলার গ্যারেন্টার প্রধানমন্ত্রী। আমরি দলগতভাবে তাঁর নির্দেশিকা মেনে কাজ করছি।” লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার লক্ষ্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “নিরাপত্তার জন্য পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে, আইন কার্যকর করতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এছাড়াও নেশামুক্ত রাজ্য গড়ৃতে হবে। আমার ধারণা, নেশাগ্রস্থ অবস্থাতেই বিকৃত মানসিকতার জন্ম হয়। আরও একটা কথা বলতে চাই, অনূর্ধ্ব ১৮ বছরে বিয়ে দেবেন না।” সবশেষে একটাই কথা বলে গেলেন, “সব দিদি লাখপতি দিদি হোক।”
