
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তারকাদের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক মুনাফা লোটার প্রবণতা নতুন নয়। অনলাইন থেকে শুরু করে অফলাইন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান প্রায়ই তারকাদের নাম, ছবি কিংবা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসার প্রচার চালায়। এতে অনেক সময় ক্ষুণ্ণ হয় সংশ্লিষ্ট তারকাদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও ভাবমূর্তি। নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিস্বত্বা রক্ষায় ইতিমধ্যেই বহু তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনও। তাঁর স্বতন্ত্র ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর থেকে শুরু করে জনপ্রিয় তারকা-পরিচিতি, বিভিন্ন সময়ে অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এবার অমিতাভ বচ্চনের ব্যক্তিস্বত্বা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল দিল্লি হাই কোর্ট। বিগ বিকে আইনি সুরক্ষা দিয়ে তাঁর পরিচিতির অননুমোদিত ব্যবহার রুখতে রক্ষাকবচ দিল শীর্ষ আদালত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে গ্ল্যামার দুনিয়ার তারকাদের বর্তমানে ডিপফেক-এর শিকার হওয়া যেন প্রায় জলভাতের মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে! তাঁদের ছবি-ভিডিও নিয়ে যত্রতত্র যৌনতা সংক্রান্ত কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলত, ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তারকাদের। আসলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ‘অভিশাপে’ সিনেমা, টেলিভিশন, ওটিটির পর্দা পেরিয়ে রুপোলি দুনিয়ার তারকারা যে একেবারে আমজনতার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে, তা বললেও অত্যুক্তি হয় না। ‘ডিপফেক’-এর এহেন বাড়বাড়ন্তে নাজেহাল সেলেবমহলও। অমিতাভ বচ্চনও এহেন অভিযোগে ২০২২ সালে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এবার তার ভিত্তিতেই বড় রায় দিল দিল্লি উচ্চ আদালত।

মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডোমেন, পোস্টার বিক্রি থেকে শুরু করে কুইজ বই— বিভিন্ন মাধ্যমে অভিনেতার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তাকে বিনা অনুমতিতে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে আদালত যে মামলায় অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, এবার সেটিতেই চূড়ান্ত নির্দেশ দিল আদালত। এর ফলে সাধারণ আইন এবং মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত নীতির আওতায় অমিতাভের ব্যক্তিত্বের অধিকার ও গোপনীয়তার অধিকার আরও সুরক্ষিত হল। আদালতের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পরিচিতি বা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এভাবে যত্রতত্র বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা যায় না। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হন কিংবা ওই তারকা কোনও পণ্য বা পরিষেবার অনুমোদন দিয়েছেন বলে ভ্রান্তি তৈরি হয়। মামলায় কয়েকজন অভিযুক্ত আদালতে হাজিরা দিয়ে অমিতাভের ব্যক্তিঅধিকার স্বীকার করে নেন। অন্যদিকে, কয়েকজন হাজিরা না দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধেও রায় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে বিনা অনুমতিতে অমিতাভের পরিচিতি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক মুনাফা লোটা যাবে না।
