Entertainment

1 hour ago

Mainul Ahsan Noble: জামিনে মুক্ত হয়েই বিতর্কিত মন্তব্য, অনুতাপহীন নোবেল ফের শিরোনামে

Mainul Ahsan Noble
Mainul Ahsan Noble

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার পর ফের বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে দুই বাংলার পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী মইনুল আহসান নোবেল। আদালত চত্বরেই তাঁর বেপরোয়া মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। “মানুষ মাত্রেই ভুল হয়। একবার ভুল করেছি, আবারও হতে পারে”—এই মন্তব্য করে কার্যত তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে তাঁর মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুতাপ নেই। বরং জামিনে মুক্ত হয়েই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে গান ধরতে দেখা যায় তাঁকে। 

গত বছরের ১৩ আগস্ট এক তরুণীকে নিজের স্টুডিওতে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ ওঠে নোবেলের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার দাবি, তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অবশেষে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডেমরা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার আদালতে তোলা হলে তিনি জামিন পান। তবে মুক্তির পর আদালত চত্বরে তাঁর আচরণ ও মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল। এবার হয়েছে, আরেকবার হতে পারে।” এই মন্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সমাজের একাংশের মতে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন শিল্পীর কাছ থেকে এমন নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। 


বিতর্ক অবশ্য নতুন নয় নোবেলের জীবনে। গত কয়েক বছরে একাধিক অভিযোগে বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। কখনও শ্লীলতাহানি, কখনও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পর্যটকদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বারবার শিরোনামে এসেছেন তিনি। স্ত্রীকে অত্যাচার ও পরকীয়ার অভিযোগ ঘিরে সমালোচনা হয়েছে বিস্তর। শুধু ব্যক্তিগত আচরণ নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঝড় তুলেছে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময়ও ক্ষমা প্রার্থনার বদলে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে এত বিতর্কের মাঝেও নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী নোবেল। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই তিনি দাবি করেন, দর্শক-শ্রোতারাই তাঁর আসল শক্তি। “দর্শক-শ্রোতারা আমাকে বোঝেন। ওরা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন,” বলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, জনপ্রিয়তা কি আইনের ঊর্ধ্বে? 

সঙ্গীতজগতে একসময় সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন নোবেল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত বিতর্কই বেশি শিরোনাম দখল করেছে। জামিনে মুক্তির পর তাঁর মন্তব্য নতুন করে সেই প্রশ্নই তুলেছে—একজন শিল্পীর দায়িত্ববোধ কোথায়? এখন দেখার, আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে কোন দিকে মোড় নেয় এই বহুল আলোচিত মামলা এবং জনমতের আদালতে তাঁর অবস্থান কতটা অটুট থাকে। 

You might also like!