
নয়াদিল্লি ও শিমলা, ১৮ জুন : চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে খাতায়-কলমে বর্ষার মরসুম শুরু হলেও, এখনও পর্যন্ত দেশের একটা বড় অংশে বৃষ্টির কালো মেঘের দেখা নেই। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, পঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ উত্তর ভারতের একটা বড় অংশে বৃষ্টির মেঘ অমিল। পরিবর্তে বঙ্গোপসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত, নীরক্ষীয় অঞ্চল বরাবর ভারত মহাসাগরে বৃষ্টির মেঘ রয়েছে। এই দেরির কারণে বর্ষার প্রথমার্ধে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি হয়েছে। ফলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৃষিকাজ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুনের কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু তেলেঙ্গানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের আরও কিছু অংশে এবং ছত্তিশগড়ের কিছু অংশে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, এখনও গরমে নাজেহাল অবস্থা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। ২১ জুন পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের কিছু মঞ্চে, ২০ জুন পর্যন্ত বিদর্ভে এবং ১৯ জুন পর্যন্ত তেলেঙ্গানায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার অনুকূল বৃহৎ-পরিসর আবহাওয়া পরিস্থিতির অভাবের কারণে মহারাষ্ট্রে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর অগ্রগতি বিলম্বে চলছে। আইএমডি জানিয়েছে, "গত ৮ জুন দক্ষিণ কোঙ্কন এবং দক্ষিণ মধ্য মহারাষ্ট্রের সংলগ্ন কিছু এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু অগ্রসর হয়েছিল। তবে, গত কয়েক দিন ধরে মহারাষ্ট্রের অবশিষ্ট অংশে বর্ষার অগ্রগতি থমকে আছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪-২৫ জুনের মধ্যে কোঙ্কন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। আবহাওয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।"
দেশের বিভিন্ন রাজ্য জখম গরমে নাজেহাল, তখন গ্রীষ্মের ছুটির কারণে হিমাচল প্রদেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। মাত্র ৪৫ দিনেই কেবল শিমলা শহরেই প্রবেশ করেছে ১৫ লক্ষের বেশি গাড়ি। এই ভিড় সামলাতে পুলিশ পাঁচ দফা কৌশল নিয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ২১০ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দ্রুত সাড়ার জন্য ৩২টি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরো শহরটিকে ৫টি সেক্টরে ভাগ করে গেজেটেড অফিসারদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় হিমাচল প্রদেশের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে হিমাচল প্রদেশজুড়ে।
