Country

1 year ago

Delhi Hospital Fire: অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু মিছিল দিল্লি হাসপাতালে!

Fire Breaks Out at Delhi Hospital (File Picture)
Fire Breaks Out at Delhi Hospital (File Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ রাতারাতি দিল্লির বেবি কেয়ার সেন্টারে আর ফুটফুটে শিশুদের কান্নার আওয়াজ নেই। এখন শুধুই শশ্মানের নীরবতা। পূর্ব দিল্লির এক বেবি কেয়ার সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে সাত শিশুর মৃত্য়ু হয়েছে। বেশ কয়েক জন শিশুর চিকিৎসা চলছে। সন্তান সুখ যেন ভাগ্যে সইল না বুলন্দশহরের কৃষক হৃতিক চৌধুরীর। রবিবারেই কোলের সন্তানকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার কথা ছিল। সেই মতো হাসপাতালে উদ্দেশে রওনাও হয়েছিলেন। তার আগেই সবটা শেষ।

হৃতিকের একরত্তি শিশু চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিল বিবেক বিহারে এই বেবি কেয়ার সেন্টারে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই একবার করে আদরের সন্তানকে দেখে আসতেন হাসপাতালে। ছোট্ট মুখখানার হাসিতে মন ভরে যেত। সবটা শেষ এক মুহূর্তেই। বুকফাটা কান্না ছাড়া আর কিছুই নেই অবশিষ্ট। শোকে পাথর গিয়েছেন স্ত্রী। রবিবার পর্যন্তও হৃতিক জানতেন না আগের রাতে ওই হাসপাতালে আগুন লেগেছে। ওই দিন হাসপাতাল থেকে কোলের সন্তানকে ফিরিয়ে আনার কথা ছিল তাঁর। সেই মতো রবিবার সন্তানকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালে উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেই সময়ই খুড়তুতো ভাইয়ের কাছ থেকেই হাসপাতালে আগুন লাগার খবর জানতে পারেন। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছে দেখতে পান মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে তাঁর সন্তানও। শোকে মুখ থেকে কথা সরছে না আর। ভাগ্যের যে এমন নিঠুর পরিহাস হতে পারে তা কল্পনাও করতে পারছেন না আত্মীয়-স্বজনও। মৃত শিশুর এক আত্মীয় জানিয়েছেন, আগেও দুই সন্তান হারিয়েছে দম্পতি। গত বছরই সন্তান হারানোর শোক কুড়ে কুড়ে খেয়েছিল। তার আগে হৃতিকের স্ত্রীর এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল গর্ভাবস্থায় থাকা অবস্থাতেই। সব দুঃখ ভুলিয়ে সকলের মুখে হাসি ফুটেয়ে কয়েক দিন আগেই তাঁদের ঘরে জন্ম নিয়েছিল এক শিশু। অগ্নিকাণ্ডে তারও মৃত্যুতে শোকের ছায়া পরিবারে।

দিল্লির বেবি কেয়ার হাসপাতালে এত বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্য়বস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন অনেকে। জানা গিয়েছে, বিবেক বিহারের ওই বেবি কেয়ার সেন্টারের ভবনের নীচের তলা থেকে উপরে ওঠার একটিই পথ ছিল। সেই পথটিও তৈরি করা হয়েছে ভবনের ভিতর দিয়ে। যার ফলে ভবনে আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা শিশুদের বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতে পারেননি। ভবনের মাঝখানে একটি লোহার সিঁড়ি রয়েছে। এই সিঁড়ি নীচের তলায় আসার কাজেও ব্যবহার করা হত। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের লেলিহান শিখা উপরের দিকে উঠতে থাকে। যার জেরে এই রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ, হাসপাতালে বেআইনি ভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবসা চলত। নীচের তলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলিং সেন্টারটি বেআইনিভাবে চালানো হচ্ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছ থেকে বিনা অনুমতিতেই চালাচ্ছিল অক্সিজেন রিফিলিং সেন্টারটি। স্থানীয়রা এনিয়ে পুলিশ ও MCD প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের কথায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো এই সাত নবজাতক প্রাণ হারাতো না।

বুধবার দিলশাদ গার্ডেন হাসপাতালে ভজনপুরার বাসিন্দা মাসি আলম ও তাঁর স্ত্রী সিতারা ঘরে জন্ম হয় এক পুত্র সন্তানের। পেশায় মাসি শ্রমিক। ওই শিশুকে বেবি কেয়ার নিউ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এই বেবি কেয়ার সেন্টার ব্যয়বহুল চিকিৎসা হওয়া সত্ত্বেও কষ্টশিষ্ট করেই এখানে ছেলের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছিলেন শ্রমিক মাসিম। অগ্নিকাণ্ডে হারিয়েছেন সদ্যজাত পুত্র সন্তানকে। তাঁর মতো অনেকেই নিজেদের নবজাতককে হারিয়ে শোকে বুক চাপড়াচ্ছেন।

You might also like!