
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে আম আদমি পার্টি (আপ) ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত। এবার সরাসরি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, সংসদে একসঙ্গে কাজ করার সময় সকাল ১১টাতেও ভগবন্ত মানের মুখে মদের গন্ধ পেয়েছেন তিনি। পাঞ্জাবে মাদকাসক্তির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা ও দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তবে কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের পাল্টা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আম আদমি পার্টি। রাহুলের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং ‘রুচিহীন’ বলে কটাক্ষ করেছে আপ।
বুধবার পাঞ্জাবের সঙ্গরুরে কংগ্রেসের ‘ইনসাফ র্যালি’তে বক্তব্য রাখছিলেন রাহুল। সেখানেই প্রাক্তন সাংসদ ভগবন্ত মানের সঙ্গে সংসদে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। রাহুলের দাবি, লোকসভায় তাঁর পাশে বসতেন মান। নানা রকম রসিকতাও করতেন। কিন্তু সকাল ১১টাতেও তাঁর মুখে মদের গন্ধ পাওয়া যেত। রাহুলের বক্তব্য, কেউ মদ্যপান করবেন কি না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু পাঞ্জাবের মতো রাজ্যে যখন মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীরই যদি নেশার অভ্যাস থাকে, তা হলে তিনি কী ভাবে সেই নেশাবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবেন? রাহুলের কথায়, ‘পাঞ্জাবের এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি মাদকের কারণে মানুষের যন্ত্রণা অনুভব করেন এবং এই সমস্যার বিরুদ্ধে আন্তরিক ভাবে লড়তে চান।
রাহুলের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন আম আদমি পার্টির দিল্লির সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর বক্তব্য, একজন সিনিয়র নেতার কাছ থেকে এমন ব্যক্তিগত আক্রমণ প্রত্যাশিত নয়। রাহুলের বিরুদ্ধেও মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠার প্রসঙ্গ টেনে এনে কটাক্ষ করেন তিনি। সৌরভের দাবি, বিজেপি ও কংগ্রেস দু’দলই পাঞ্জাবের আপ সরকারকে নিশানা করতে ব্যস্ত। এ দিনের সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও আক্রমণ করেন রাহুল। তিন বছরের মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করতে অমিত শাহ যে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন তা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেস নেতার দাবি, এক বছরের বেশি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার টিকবে না।
পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন রাগা। মঞ্চে ডেকে নেন প্রয়াত গায়ক সিধু মুসেওয়ালার বাবা বলকৌর সিংকে।২০২২ সালের ২৯ মে মানসা জেলায় নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় গুলিতে খুন হয়েছিলেন মুসেওয়ালা। রাহুলের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের পরেও রাজ্যে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে রাজ্যে গ্যাংস্টারদের বাড়বাড়ন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। পাঞ্জাবে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সরকার দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রাহুলের অভিযোগ, বর্তমানে পাঞ্জাব সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে অমিত শাহ এবং আপের জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হাতে। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও আপ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। আপকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পাঞ্জাব বিধানসভার ১১৭টি আসনের মধ্যে ৬৯টিই রয়েছে মালওয়া অঞ্চলে। ভগবন্ত মানের রাজনৈতিক ঘাঁটি সঙ্গরুর থেকেই তাই নির্বাচনী প্রচার শুরু করে কংগ্রেস বুঝিয়ে দিল, ২০২৭-এর ভোটে মাদক, আইনশৃঙ্খলা ও বেকারত্বই তাদের প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে।
