কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর : এসে গেল বিশ্বকাপ ক্রিকেট।ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ আসরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখার জন্য তাকিয়ে পৃথিবীর অজস্র ক্রিকেটপ্রেমী। এই ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে রয়েছে বেশকিছু অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য ঘটনা। সে নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
২০১৯ বিশ্বকাপ: বেল পড়ে না কেন?
বোলাররা অভিযোগ তুলতেই পারেন, কী এক জিং বেল নিয়ে এল আইসিসি, পড়েই না! বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার এমন ঘটেছে যে বল স্টাম্পে লেগেছে, কিন্তু বেল পড়েনি। স্টাম্পে বল লাগিয়েও উইকেট পাননি বোলার। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক এভাবে ভাগ্যের ফেরে বেঁচে গেলেন, তার এক দিন পর শ্রীলঙ্কার দিমুথ করুনারত্নে। এরপর একে একে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল, বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন, আর সর্বশেষ স্টাম্প বাঁচাল অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নারের।
২০১৯ বিশ্বকাপ: বিরাট কোহলির বোকামো
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ।ভারতের ইনিংসের ৪৮তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মোহাম্মদ আমিরের মাথা তাক করা বলে সজোরে ব্যাট চালিয়েও নাগাল পেলেন না বিরাট কোহলি। পাকিস্তানিরা আউটের আবেদন করলেও আম্পায়ার আউট দেননি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিজেই ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দিতে শুরু করলেন কোহলি। নিজেই চলে যাওয়ায় সবার মনে হয়েছিল, বল ব্যাটে লেগেছে বিধায় নিজেই ‘ওয়াক’ করেছেন ভারত অধিনায়ক। এমন ঘটনা তো বেশ কয়েকবারই দেখেছে ক্রিকেট। তবে টিভি পর্দায় রিপ্লে দেখানোর পরই খটকার শুরু। রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেল, ব্যাটের সঙ্গে বলের কোনো সংযোগই ঘটেনি। বরং কোহলির ব্যাটের অনেকটা ওপর দিয়েই গেছে বল। স্নিকোমিটারও নিশ্চিত করেছে, বল কোহলির ব্যাটে লাগেনি। তাহলে কেন ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছিলেন বিরাট কোহলি?এটা বিরাট কোহলির বোকামো ছাড়া আর কি!
২০১৯ বিশ্বকাপ: বেন স্টোকসের সিগারেট ব্রেক!
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালকে সবচেয়ে অদ্ভুত ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ৷ ইংল্যান্ডের সেই বিশ্বকাপ প্রথমে টাই হয়। তারপর আম্পায়াররা সুপার ওভারের সিদ্ধান্ত নেন ৷ ম্যাচ অবশ্য টাই হবার আগেই নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতে নিত ৷ কিন্তু ইংল্যান্ডের হয়ে বেন স্টোকস একা লড়াই জারি রেখেছিলেন। সেদিন বিশ্বকাপের স্বপ্ন স্টোকসকে মানসিক ভাবে দূর্বল করে দিয়েছিলো । দলপতি মরগ্যান যখন টিম মিটিংয়ে ব্যস্ত,
স্টোকস তখন শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে চলে যান ৷
সেখানে একটা সিগারেট নিয়ে কয়েক মিনিট ব্যক্তিগত সময় কাটিয়ে সুপার ওভারে ব্যাটিং করতে নামেন ৷বেন স্টোকস সেই ফাইনাল ম্যাচে নট আউট ৮৪ রান এবং সুপার ওভারে আট রানের জন্য ম্যান অফ দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছিলেন ৷
১৯৮৩: সুনীল ওয়ালসনের কীর্তি
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি খুব পরিচিত নন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫.৩৫ গড়ে ২১২ উইকেট নিয়ে বেশ সম্ভাবনা জাগিয়েই ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপে ভারতের জাতীয় স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছিলেন এই বাঁ হাতি পেসার। কিন্তু সেবার দলে কপিল দেব ও বলবিন্দর সিংদের মতো পেসার থাকার কারণে একাদশে জায়গা পাননি তার। কিন্তু ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয় করে নেয় ভারত। অথচ আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের তালিকায় নাম লেখান তিনি। এমন কি বিশ্বকাপের পরেও ভারতের হয়ে খেলার সুয়োগ হয়নি সুনীলের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই ‘অদ্ভুত’ রেকর্ড ক্রিকেট ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই।
১৯৯৬: ইডেন গার্ডেনে দাঙ্গা, শ্রীলঙ্কাকে বিজয়ী ঘোষণা
১৯৯৬ বিশ্বকাপে ভারত ও শ্রীলংকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ইডেন গার্ডেনে। শ্রীলংকা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ভারতকে ২৫২ রানের লক্ষ্য মাত্রা দেয়। সেই টার্গেট তাড়া করতে নেমে শ্রীলংকার বোলিং আক্রমণে মাত্র ১২০ রানেই ৮ উইকেট হারায় ভারত। দর্শকরা ভারতের এই ধরনের খেলা মেনে নিতে না পেরে গ্যালারি থেকে বোতল ছুঁড়তে থাকে। ক্ষুব্ধ জনতা গ্যালারিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেজন্য ১৫ মিনিট ম্যাচ রেফারি খেলা বন্ধ রাখলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি আর মাঠে গড়ায়নি। পরে শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
২০০৭ বিশ্বকাপ: অন্ধকারে মীমাংসা
২০০৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ফাইনাল হয়েছিল কেনসিংটন ওভালে। ফাইনালে মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকা। কিন্তু ম্যাচটি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত খেলাটি হয় ৩৮ ওভারে। গিলক্রিস্টের ব্যাটিং তান্ডবে অজিরা করে ২৮১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকা ব্যাটিংয়ে নামার পর আকাশ মেঘে ঢেকে যায়,নেমে আসে অন্ধকার। মাঠে ছিল না কোন ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা এবং আইসিসিও কোন রিজার্ভ ডে রাখেনি। দুই দলপতি পন্টিং এবং জয়াবর্ধনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয় স্পিন বোলিং করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার। তারপরও বল দেখতে সমস্যা হচ্ছিল লংকানদের। মাত্র তিন ওভার খেলা মাঠে গড়ানোর পর লংকানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ রান। পরবর্তীতে আলো স্বল্পতার জন্য খেলা বন্ধ করে ডার্কওয়াথ লুইস পদ্ধতিতে অজিদের ৫৩ রানে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ফাইনালে পুরো ঘটনার জন্য সমালোচনার পড়তে হয় আইসিসিকে।
২০০৩: ডোপ করার জন্য শেন ওয়ার্নকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়!
বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সবচেয়ে হাস্যকর কাহিনী ছিল শেন ওয়ার্নের নিষেধাজ্ঞা। সেবার বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাত্র একদিন আগে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন শেন। তবে তার ভাষ্যমতে, সুশ্রীর জন্য মায়েরf দেওয়া একটি ঔষধ তিনিc সেবন করেন। সেই ঔষধে ডোপ পজেটিভ উপাদান থাকার কথা তিনি জানতেন না। সেজন্য ওয়ার্নকে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা পেতে হয়।
