
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ তিনি ত্রিনিদাদের অলিখিত রাজপুত্র!ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি সেই বর্নময় অধ্যায় যা সারা বিশ্ব মনে রেখেছে। ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে, ভেনেজুয়েলার কিছু উত্তরে ত্রিনিদাদের সান্তাক্রুজে ১৯৬৯ সালের আজকের দিনে জন্ম নেন ব্রায়ান লারা, বিরাট বড় পরিবার, ১১ ভাইবোনের মধ্যে ১০-তম। তবে খেলার দুনিয়ায় তিনি ১নং। এতে কোনো দ্বিমত নেই, বিতর্কও নেই। তার খেলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাঁর পোশাকি নাম ‘দ্য প্রিন্স’।
ব্র্যাডম্যানের পরে বিশ্ব ক্রিকেটে তার কোনো জুড়িদার নেই। ক্রিকেট বিশ্বে তিনি অনন্য, অপরাজিত। স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের নাম শুনলেই ক্রিকেটপ্রেমী ব্যক্তিরা সমীহ ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁর কীর্তিকে স্মৃতিচারন করে থাকেন। তাঁর টেস্টে ব্যাটিং গড় ৯৯.৯৪। কোনো মানুষের পক্ষে এমন অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানে পৌঁছানো বিশ্বাস করা খানিক মুশকিল, এ যেন রূপকথার গল্পের মতই কল্পনীয়। তবে এটাই একেবারে পাক্কা বাস্তব।

ব্রাডম্যানের এহেন র্কীতি ঠিক ম্লান হয়নি , আসলে এমন নক্ষত্রসম ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিকে ভোলা কখনই সম্ভব নয়,মনের মনিকোঠায় ইতি উতি উঁকি দিচ্ছে তারই না না স্মৃতি। সেই স্মৃতিই আবার ফিরে এল ত্রিনিদাদের অতি সাধারন এক স্বল্প বয়সী কিন্তু প্রতিভাবান এক ক্রিকেটারের খেলায়। সালটা ১৯৯৪ সালের ২ জুন, এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ডারহ্যামের মুখোমুখি ওয়ারউইকশায়ার। সেবার ওয়ারউইকশায়ার সই করিয়েছিল মনোজ প্রভাকর এবং অ্যালান ডোনাল্ডকে। অথচ প্রভাকরের চোট। অতএব, তড়িঘড়ি তাঁর বদলি খোঁজা হল, ২৫ বছরের তরুণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্রায়ান লারা।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ডারহ্যাম ৮ উইকেটে ৫৫৬ তুলে ডিক্লেয়ার করে দেয়। ২০৪ করেছিলেন জন মরিস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজের ক্রিকেট মাঠে নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন তিনি। ৪২৭ বলে তোলেন ৫০১, পুরো ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬২-টা চার, ১০-টা ছয় দিয়ে। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে একজন খেলোয়াড়ের করা ৫০০ রান ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি একটি বিরল র্কীতি, যা আজও বহুল চর্চিত। তার ক্রিকেটিয় ও ব্যকরন ও অনবদ্য স্টাইল আজও সকলকে মুগ্ধ করে।

২০০৪ সালে আবারও এরকম এক বিশ্বরেকর্ড করেছিলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলতে এসেছে ইংল্যান্ড, অধিনায়ক মাইকেল ভন। অ্যান্টিগায় চতুর্থ টেস্ট। তার আগের তিনটি টেস্টেই জিতেছে ইংল্যান্ড। টসে জিতে ব্যাট নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।অপেন করতে নামলেন ক্যারাবিয়ান ওয়ানন্ডারম্যান ক্রিস গেইল এবং ডারেন গাঙ্গা। গাঙ্গা ১০ তুলেই আউট। নামলেন ব্রায়ান লারা। তারপরের ঘটনা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে আর ঘটেনি। ৫৮২ বল খেলে ৪০০ রানে নট আউট থাকলেন ব্রায়ান লারা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলল ৭৫১। সেবার ইংল্যান্ড ফলো-অন খেয়েও ম্যাচ ড্র করেছিল বটে, তবে ব্রায়ান লারার সেই বিধবংসী ব্যাটিং আজ ও সবার মনে থেকে গিয়েছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিসের ক্রিকেট ইতিহাসে তিন নং স্থানটা লারার সাথে সমানুপাতিক ছিল। ব্র্যাডম্যানের পরে তিনিই ছিলেন দ্বিতীয়, যিনি দুইবার ত্রিশতরান করেছিলেন। দ্বিশতরানের বিচারেও তিনি তিন নম্বরে। করেছেন নয়টি দ্বিশতরান, তাঁর ওপরে শুধু কুমার সঙ্গাকারা এবং ডন ব্র্যাডম্যান। ২০০৭ সালে তিনি অবসর নেন। ক্রকেট ইতিহাসের তিনি ছিলেন অন্যত্তম আল্টিমেট শোম্যান। তিনি তার ক্রিকেটীয় জীবনকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছিলেন- “ডিড আই এন্টারটেইন?” তিনি নিজের খেলা দিয়ে সকল জনমানসে শুধুমাত্র খুশি দিতে চয়েছেন।

আজ চুয়ান্ন বছরে পা দিলেন তিনি। আপাতত রয়েছেন এদেশেই, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের কোচের দায়িত্বে। আজও তিনি ক্রিকেট বিশ্বে নিজেকে নতুন অধ্যায়ে নতুন করে পুনরায় এন্টারটেইনার হিসাবে নিজের পরিচিতি তৈরী করে চলেছেন।
