
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়—বেশির ভাগ ক্রীড়াপ্রেমীর চিন্তাভাবনা এমনই। তবে ব্যাপারটা যখন প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি সুবিধা নেওয়ার, তখন সেই চিন্তা থেকে সরে যান অনেকেই। মাঝেমধ্যে যা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারও কম উদাহরণ নেই।
সর্বশেষ উদাহরণটি একদমই টাটকা। পরশু রাতে মাল্টার তা’কালির সেন্টেনারি স্টেডিয়ামে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ালিফাইংয়ে ইসরায়েলের ম্যাকাবি হাইফার মুখোমুখি হয় মাল্টার হামরুন স্পার্তানসের। সেই ম্যাচেই স্বাগতিক হামরুন স্পার্তানসের সমর্থকেরা ‘প্যালেস্টাইন, প্যালেস্টাইন’ স্লোগান তুলেছেন, যা নিয়ে শেষ পর্যন্ত মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের সমর্থকেরা। আর এর জেরে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে মারামারি থামিয়ে খেলা যখন আবার শুরু হয়, তখন কেটে গেছে আধা ঘণ্টা। ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য ম্যাচের শুরুর দিকে। সফরকারী ইসরায়েলি ক্লাবটির সমর্থকেরা মাঠে ফ্লেয়ার (একধরনের আতশবাজি) ছুড়ে মারেন। জবাবে তাঁদের দিকে ইটপাটকেল ছোড়েন স্পার্তানসের সমর্থকেরা। স্বাগতিকেরা ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সেই সময়ে ইসরায়েলি ক্লাবটিকে উত্ত্যক্ত করতে ‘প্যালেস্টাইন, প্যালেস্টাইন’ স্লোগান তোলেন স্পার্তানস সমর্থকেরা। চির বৈরী ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্কের কথা মাথায় রেখেই যে ওই স্লোগান। এরপরই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের সমর্থকেরা। সংঘর্ষ এতটাই ছড়িয়ে পড়ে যে ৫৫ মিনিটে ম্যাচ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন রেফারি।
মাল্টার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাঠে অবৈধভাবে ফ্লেয়ার নিয়ে ঢোকাতেই আটক করা হয়েছে ম্যাকাবির সমর্থকদের। তারা এটিও জানিয়েছে, ম্যাচ শুরুর আগে তল্লাশি করা হলেও অনেক ম্যাকাবি সমর্থক অন্তর্বাসে ফ্লেয়ার লুকিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা নিয়ে উয়েফা বলেছে, ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে তারা।
কোয়ালিফাইংয়ের প্রথম রাউন্ডের প্রথম লেগটি শেষ পর্যন্ত ম্যাকাবি জিতেছে ৪-০ গোলে। ১৮ জুলাই ইসরায়েলে হওয়ার কথা দ্বিতীয় লেগ।
