
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্র্যামির মঞ্চে এবার টেক্কা দিল আধ্যাত্মিকতার বার্তা। ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আসরে সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং বিভাগে সম্মানিত হলেন চতুর্দশ দলাই লামা। নবতিপর এই আধ্যাত্মিক গুরু তাঁর শান্তি ও মানবিকতার বাণী দিয়ে জায়গা করে নিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা সঙ্গীত সম্মানের তালিকায়।
যদিও পুরস্কার গ্রহণের সময় গ্র্যামির মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না দলাই লামা। তাঁর হয়ে সম্মান গ্রহণ করেন খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট। পুরস্কার হাতে নিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “দলাই লামার সঙ্গে দয়া, মমতা ও আত্মচিন্তার বার্তা বহনকারী এই প্রকল্পে কাজ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। এর বেশি আর কীই বা চাওয়া থাকতে পারে।” এই বিভাগে প্রতিযোগিতা যে সহজ ছিল না, তা মনোনীতদের তালিকাই স্পষ্ট করে দেয়। গ্র্যামির সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং মিলি ভানিলির ফ্যাব মরভ্যান—সকলকে পিছনে ফেলে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেন দলাই লামা। তাঁর শান্তির বাণী ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অপূর্ব মেলবন্ধনে তৈরি অডিও প্রজেক্ট ‘Meditation: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama’–এর জন্যই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চিনা বাহিনীর আগ্রাসনের মুখে মাত্র ২৩ বছর বয়সে দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তেনজিন গিয়াতসো—যিনি বিশ্বের কাছে পরিচিত দলাই লামা নামে। সেই সময় থেকেই ভারত তাঁর দ্বিতীয় ঘর। এই দীর্ঘ সময়ে দলাই লামাকে ঘিরে ভারত-চিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন একাধিকবার সামনে এসেছে। বেজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে মনে করলেও, বর্ষীয়ান ধর্মগুরু বারবার ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। দশকের পর দশক ধরে ভারতের পাশে থাকা দলাই লামা আজ শুধু এক আধ্যাত্মিক গুরু নন, ভারত ও মানবিকতার এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। গ্র্যামির মঞ্চে তাঁর এই সাফল্য যেন ফের একবার প্রমাণ করল—শান্তি, দয়া ও মানবতার ভাষা সীমানা মানে না।
