
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় ও নববধূ ঋতিকা গিরির সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঋতিকা গিরি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, “পাঁচ বছর ধরে হিরণের সঙ্গে আছি।” যদিও সেই পোস্টের অস্তিত্ব বর্তমানে নেই। এর মধ্যেই ২০২১ সালের একটি ছবি সামনে এসেছে, যেখানে খড়্গপুরের বিধায়ককে ভাইফোঁটা দিচ্ছেন ঋতিকা। এই ছবি দেখেই নেটদুনিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে, যদি সম্পর্ক পাঁচ বছর ধরে চলে, তবে ২০২১ সালে হিরণকে ভাইফোঁটা দেওয়া কীভাবে সম্ভব?
প্রসঙ্গত, ঋতিকা নিজেই তার পোস্টে বলেছিলেন, “আমরা অনেক আগেই বিয়ে করেছি। পাঁচ বছর ধরে একসাথে আছি। অনিন্দিতা সব জানত। সব কিছুই আমার পাবলিক অ্যাকাউন্টে ছিল। কিছুই লুকানো ছিল না।” এই মন্তব্যকে সামনে রেখে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় পাল্টা মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “পাঁচ বছরের সম্পর্ক হলে, একুশ সালে ভাইফোঁটা দিলেন কীভাবে? আর এই ছবিটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এটা হিরণের খড়্গপুরের বাড়িতে তোলা।” এখানেই অবশ্য থামেননি নেতা-অভিনেতার প্রথম পক্ষের স্ত্রী।

ঋতিকাকে বিঁধে অনিন্দিতা আরও বলেছেন, “দাদা হিসেবে ভাইফোঁটা দিয়ে তাকেই আবার কেউ কীভাবে বিয়ে করতে পারে! অত্যন্ত লজ্জাজনক বিষয়। ভাবলেই অস্বস্তি হচ্ছে। তবে আমি যে মিথ্যে বলিনি, সেটা আবারও প্রমাণ হয়ে গেল।” সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অনিন্দিতা এও জানান যে, “একাধিক নারীসঙ্গের অভ্যেস হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বরাবরের। একবার হিরণের শরীর খারাপ হওয়ায় না জানিয়ে খড্গপুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন ঋতিকা আমাকে দেখেই ভূত দেখার মতো সেখান থেকে পালিয়ে যায়। হিরণও হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল আমাকে দেখে। তখন থেকেই আমার সন্দেহের উদ্রেক হয়। কিন্তু হিরণ বলেছিল, ঋতিকার মায়ের জন্মদিন, তাই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়। একবার হিরণ আমাকে বলেছিল- ‘ঋতিকা আত্মহত্যার ভয় দেখাচ্ছে। ছুরি নিয়ে মারতেও এসেছিল।’ তবে তখন নিজের মানসিক কষ্টকে পাশ কাটিয়ে মনে হয়েছিল, হিরণকে রক্ষা করাই প্রয়োজন। গত পঁচিশ বছর ধরে অনেক কিছু সহ্য করেছি, কিন্তু হিরণের রাজনৈতিক পরিচয় ও সিনেমা জগতের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য কিছু বলিনি। এখন মনে হচ্ছে, তা করা ভুল ছিল। পদ্ম শিবিরের তারকা বিধায়কের দ্বিতীয় ‘বিবাহ অভিযান’-এর পরেই এই পুরনো কেচ্ছাগুলো একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, যদিও তিনি নিজে এখনো নীরব।
