
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মা আর স্বামী—এই দুই ভালোবাসার মাঝখানে দাঁড়িয়ে অসহনীয় মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী। “হয় মা, নয় সংসার”—এই শর্তে দীর্ঘদিন মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নিতে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন দেবলীনা, তবে মানসিক আঘাত এখনও গভীর। এবার হাসপাতাল থেকেই চোখে জল নিয়ে ট্রোলারদের কাতর আর্জি দেবলীনা নন্দীর। বললেন, “আপনাদের বিষ কথায় আমাকে মেরে ফেলবেন না প্লিজ!”
বর্তমানে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেবলীনা। শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকেই ফেসবুক লাইভে আসেন। চোখে জল নিয়ে তিনি ট্রোলারদের কাছে কাতর আবেদন জানান। গত কয়েক দিনে নেটদুনিয়ায় তাঁকে নিয়ে যে লাগাতার কটূক্তি ও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা বহুগুণ বেড়েছে বলেই জানান তিনি। কখনও বলা হয়েছে আত্মহননের চেষ্টা নাকি ভিউ বাড়ানোর নাটক, আবার কখনও ৭৮টি ঘুমের ওষুধ কোথা থেকে এল তা নিয়ে কুরুচিকর আক্রমণ হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে সঙ্গীতশিল্পী তথা ইনফ্লুয়েন্সার জানান, “আমি যে পথটা বেছে নিয়েছিলাম সেটা কোনও সঠিক পথ নয়। ভুল আমি করেছি কিন্তু সবটাই ভালোবাসার জন্য। একদিকে মা, আরেকদিকে ভালোবেসে বিয়ে করা বর। আমি একটু স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছি। দয়া করে নোংরা ট্রোল করে আমার মানসিক শান্তির ব্যঘাত ঘটাবেন না।”

নেটদুনিয়ায় চূড়ান্ত মাত্রায় অশালীন মন্তব্যে বিধ্বস্ত দেবলীনা বলেন, “দমবন্ধ হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম সেই দিনটা জীবনের শেষ হবে। কিন্তু ভগবান বাঁচিয়ে দিয়েছে আমাকে। একটু সুস্থভাবে বাঁচতে দিন। ভালোবাসার মানুষ আর সংসার হারিয়েছি। যেটা আমার কাছে মরে যাওয়ার সমান। আপনাদের বিষ কথায় আবার আমাকে মেরে ফেলবেন না দয়া করে।” দেবলীনাকে ঘিরে বিতর্কের মাঝেই তাঁর মা সংবাদমাধ্যমে জানান, গত আগস্টে শ্বশুরবাড়ি থেকে মেয়েকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। শাশুড়ির তরফে আলাদা থাকার নিদান এবং শ্বশুরের কুরুচিকর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তবুও স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার আশা ছাড়েননি দেবলীনা। তবে শনিবারের লাইভেই তিনি স্পষ্ট করে দেন—স্বামী ও সংসার, সবটাই তিনি হারিয়েছেন। এখন একটাই আবেদন—মানুষ যেন একটু মানবিক হয়।
