
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমান সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মানেই সাহসী দৃশ্য, যৌনতার প্রকাশ এবং সীমাহীন গল্পের স্বাধীনতা। কিন্তু থিয়েটারে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে সেন্সর বোর্ডের বাধা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ফিল্মমেকার সেন্সর বোর্ডের নির্দেশনা মেনে ছবি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। কোথাও ছবির নির্দিষ্ট দৃশ্য সম্পূর্ণভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও এত বেশি কাটছাঁটের নির্দেশ এসেছে যে নির্মাতারাই ছবির মুক্তি স্থগিত করেছেন। আজকের প্রতিবেদনে এক নজরে দেখে নিন এমনই কিছু ভারতীয় ছবির তালিকা যা এ দেশে মুক্তির আলো দেখেনি।
১. আনফ্রিডম (Unfreedom): সমকামিতা আর সন্ত্রাসবাদের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে তৈরি পরিচালক রাজ অমিত কুমারের এই ছবি। এই ছবিতে সেন্সার সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করেছিল সিবিএফসি। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, আদিল হুসেন, প্রীতি গুপ্তার মতো শিল্পীরা। নেটফ্লিক্সে দেখা যাবে এই ছবি।
২. ব্যান্ডিট কুইন (Bandit Queen): ফুলন দেবীর জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত শেখর কাপুরের এই ছবিটি অত্যন্ত প্রশংসিত হলেও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ছবিতে অতিরিক্ত গালাগালি, নগ্নতা এবং যৌন হিংসার দৃশ্য থাকায় সেন্সর বোর্ড এটি আটকে দেয়। পরবর্তীকালে অনেক কাটছাঁট করে এটি মুক্তি পায়। ছবির সেই কাঁটছাঁট করা ভার্সন বর্তমানে দেখতে পাবেন ইউটিউবে।
৩.অ্যাংরি ইন্ডিয়ান গডেস (Angry Indian Goddess): আক্ষরিক অর্থে এই ছবির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি, তবে সিবিএফসি-র তরফে এই ছবির একাধিক দৃশ্যে কাঁচি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি ছিল না নির্মাতারা। পুরুষকে অবজেক্টিফাই করা, মা কালীর ছবি দৃশ্যে ব্যবহার, ‘সরকার কৌন হোতি হ্যায় ইয়ে ডিসাইড করনেওয়ালি’-র মতো লাইনে আপত্তি ছিল সেন্সার বোর্ডের। কিন্তু নেটফ্লিক্সে সহজেই এই ছবি দেখে নিতে পারবেন আপনি।
৪. ফায়ার ( Fire): দীপা মেহতার এই ছবি সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে, এমনটাই বলেন সমালোচকরা। ১৯৯৬ সালে সমকামিতা (লেসবিয়ান সম্পর্ক) নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই ছবি। দুই জা-এর মধ্যেকার প্রেম সম্পর্ক উঠে এসেছিল নন্দিতা দাস ও শাবানা আজমি অভিনীত এই ছবিতে। এই ছবি প্রাথমিকভাবে মুক্তি পেলেও ব্যাপক রোষের মুখে পড়তে হয় সিনেমাহল মালিকদের। বেশ কিছু হিন্দু সংগঠন ভাঙচুর চালায় সিনেমা হলে। এরপর এই ছবি নিষিদ্ধ করা হয় ভারতে। যদিও বর্তমানে ইউটিউবে নিখরচায় দেখে নিতে পারবেন এই ছবি।
৫. ওয়াটার (Water): আগের মতো বিতর্ক পিছু ছাড়েনি পরিচালক দীপা মেহতার 'ওয়াটার' ছবিরও। স্বাধীনতা পূর্বর্তী ভারতবর্ষে বারাণসীর আশ্রমে বিধবাদের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে এই ছবিতে। কেমনভাবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় প্রতি পদে পদে শোষিত হত বিধবারা, তার জ্বলন্ত চিত্র এই ছবি। বিশ্বের বহু চলচ্চিত্র উত্সবে সমাদৃত এই ছবির মুক্তি নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তবে ইউটিউবে সহজেই দেখা যাবে এই ছবি।
৬.লাভ (Love): সমকামিতা ( গে সম্পর্ক)-ই এই ছবির মূল বিষয়বস্তু। সুধাংশু সারিয়ার এই বহুল প্রশংসিত ছবি সেন্সারের গোড়ায় আটকে মুক্তির আলো দেখেনি। তবে নেটফ্লিক্সে সহজেই দেখা যাবে এই ছবি।
৭. গান্ডু (Gandu): এই তালিকায় রয়েছে কলকাতার এক গল্পও। পরিচালক কৌশিক মুখোপাধ্যায় থুড়ি কিউ-এর ‘গান্ডু’ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। নিউইয়র্কে 'সাউথ এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-এ প্রিমিয়ার হয়েছিল। এরপর 'বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব' এবং 'স্লামডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল'-এ প্রশংসিত হয় এই ছবি। এক ক্রুদ্ধ কমবয়সী র্যাপার গান্ডুর স্বপ্ন আর বাস্তবতার দোটানা উঠে এসেছে ছবিতে। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন অনুব্রত বসু, জয়রাজ ভট্টাচার্য, রি সেন, কমলিকা, শিলাজিৎ। লাগাম ছাড়া যৌনতাই এই ছবির নিষেধাজ্ঞার কারণ। নেটফ্লিক্সে এই ছবি দেখা যাবে।
৮. ব্ল্যাক ফ্রাইডে (Black Firday): অনুরাগ কশ্যপের ব্ল্যাক ফ্রাইডে ছবিকে ছাড়পত্র দেয়নি সেন্সার বোর্ড। ১৯৯৫ সালের মুম্বই ব্লাস্টকে ঘিরে এই ছবির কাহিনি, থিয়েটারে মুক্তি না পেলেও বর্তমানে ডিজনি প্লাস হটস্টারে দেখতে পাবেন এই ছবি।
৯. পরজানিয়া (Parzania): রইস পরিচালক রাহুল ঢোলকিয়ার এই ছবির প্রেক্ষাপট গুজরাতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই ছবিকে সিবিএফসি সেন্সার সার্টিফিকেট দেয়নি। ছবির একাধিক দৃশ্যকে সংবেদনশীল আখ্যা দিয়ে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিল বোর্ড। তবে বর্তমানে ডিজনি প্লাস হটস্টারে নাসিরুদ্দিন শাহ-সারিকা অভিনীত এই ছবি দেখা যাবে।
১০. কামাসূত্র: আ টেল অফ লাভ (Kama Sutra: A Tale of Love) : সেন্সর বোর্ড (CBFC) ছবিটিকে অশ্লীল বলে অভিহিত করেছিল। ছবির প্রধান বিষয়বস্তু ছিল প্রাচীন ভারতের কামকলা এবং যৌনতা, যা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হওয়া সত্ত্বেও পর্দার উপস্থাপনাকে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে সমাজবিরোধী বলে মনে করা হয়েছিল। ছবিতে নগ্নতা এবং অত্যন্ত খোলামেলা যৌন দৃশ্য থাকার কারণে সেন্সর বোর্ড এটি আটকে দেয়। যদিও পরিচালক মীরা নায়ার দাবি করেছিলেন যে এটি খোদ ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতিফলন, কিন্তু বোর্ড তা মানতে নারাজ ছিল। Apple TV-ইউটিউবে এই ছবি দেখা গেলেও ভারতে তার ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
