
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিয়ে করার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা ও আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক তথা অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিয়ে বিতর্কের আবহে সম্প্রতি চেন্নাইয়ে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন হিরণ। অবশেষে অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ‘অ্যাটেনডেন্স’ দিলেন তিনি। এদিন বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় উপস্থিত ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।”
ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলমান মামলা এড়াতে ভিন্ন রণকৌশল নিয়েছেন বিধায়ক-অভিনেতা। সূত্রের দাবি, ঋতিকা গিরির সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তিনি মানতে নারাজ। এমনকি সোশাল মিডিয়ায় যে বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেই পোস্টও নাকি তিনি নিজে করেননি—এমন দাবিও করেছেন ঘনিষ্ঠদের কাছে। বিধানসভায় হিরণকে ঘিরে কৌতূহল ছিল বিজেপি পরিষদীয় দলের সতীর্থদের মধ্যেও। কয়েকজন বিধায়ক তাঁকে শুভেচ্ছা জানান বলে খবর। যদিও বিষয়টি ব্যক্তিগত এবং বিচারাধীন হওয়ায় অধিকাংশ বিধায়কই এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি।

উল্লেখ্য, ঋতিকা গিরির সঙ্গে বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। এরপর তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় আনন্দপুর থানায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। অনিন্দিতার দাবি, তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। পালটা বক্তব্য রাখেন ঋতিকা গিরিও, যা বিতর্ক আরও বাড়িয়ে তোলে। বর্তমানে গোটা বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে বিচারাধীন এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় আগাম জামিন চেয়েছেন হিরণ।
সব মিলিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও, বিধানসভায় কাজে ফিরেও কোনও বিষয়ে মতামত পেশ করেননি হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, স্ত্রী ও মেয়ের প্রতি দায়িত্ব পালনে তিনি অবিচল রয়েছেন।
