
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ লাল দোতলা বাসের পর ইতিহাস হতে চলেছে মুম্বইয়ের বিখ্যাত অভিজ্ঞান প্রিমিয়ার পদ্মিনী কালো-হলুদ ট্যাক্সি।সোমবার থেকে মুম্বাই-তে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কালো-হলুদ ট্যাক্সি। সরকারি সূত্রের খবর, রবিবারই ২০ বছরের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে বাণিজ্যনগরীর শেষ নথিভুক্ত ‘কালি-পিলি’ ট্যাক্সিটির। ফলে, ৩০ অক্টোবর, সোমবার থেকে মুম্বইয়ের বিখ্যাত অভিজ্ঞান কালো-হলুদ ট্যাক্সি বাস্তব থেকে চলে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
‘ফিয়াট ১১০০ডি’ শেষ পাঁচ দশক সময় ধরে এই হলুদ-কালো ট্যাক্সিই মুম্বইবাসীকে নিরাপদ সফরের মাধ্যম হিসাবে কাজ করেছে। সিনেমা থেকে খেলা, বাণিজ্য থেকে রাজনীতি— মুম্বইয়ের প্রিমিয়ার পদ্মিনী হলুদ-কালো ট্যাক্সির বিকল্প ছিল না,কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কখন যে কালি-পিলি দৌড় থেকেই ছিটকে পড়ল, বোঝাই গেল না।
মুম্বইয়ে বাণিজ্যিক গাড়ি একটানা ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। তার পর তা চলে যায় বাতিলের খাতায়। পরিবহণ দফতরের এক কর্তা জানাচ্ছেন, শেষ প্রিমিয়ার পদ্মিনী কালো-হলুদ ট্যাক্সিটি নথিভুক্ত হয়েছিল তারদেও আরটিও-তে। তারিখ ছিল ২০০৩ সালের ২৯ অক্টোবর। ক্যালেন্ডার গুনে রবিবারই শেষ হচ্ছে সেই ২০ বছরের সময়সীমা। ফলে কালের নিয়মেই তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অ্যাপ ক্যাব যখন ব্যক্তিগত পরিবহণের বাজারের সিংহভাগ দখল করে বসে আছে, তখন হলুদ-কালো ট্যাক্সির বাজার ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছিল।প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দৌড়েও পিছিয়ে পড়ছিল প্রিমিয়ার পদ্মিনী। তারই অনিবার্য পরিণতি, মুম্বইয়ের রাস্তাকে চিরতরে বিদায় বলতে হচ্ছে তাকে।
উল্লেখ্য,শহরের নাম তখন বম্বে। ১৯৬৪ সালে ট্যাক্সি হিসাবে প্রিমিয়ার পদ্মিনীর যাত্রাশুরু। ১৯৭০ সাল নাগাদ ইতালির ফিয়াট কোম্পানি বাজারে আনে ‘প্রিমিয়ার প্রেসিডেন্ট’। পরবর্তী কালে তারই নাম হয় ‘প্রিমিয়ার পদ্মিনী’।বম্বে, পরবর্তীতে মুম্বইয়ের রাস্তা দাপিয়ে ছুটতে থাকে পথের রানি, পদ্মিনী। ট্রেডমার্ক ফিয়াটের হলেও গা়ড়িটি তৈরি করত যৌথ অংশীদারির সংস্থা ‘প্রিমিয়ার অটোমোবাইল লিমিট’ (পিএএল)। ২০০১ সালে পিএএল এই ধরনের গাড়ি তৈরি করা বন্ধ করে দেয়। অতঃপর শেষ নথিভুক্ত গাড়িরও মেয়াদ ফুরিয়ে গেল রবিবার।
