
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃমাওবাদীদের অতর্কিতে হামলায় ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় বুধবার ১০ জওয়ান ও গাড়ির চালক-সহ মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরেই এলাকায় যায় আধাসামরিক বাহিনীর বিরাট দল। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন অন্তত ৫০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল মাওবাদীরা। যার জেরে রাস্তায় বিশাল গর্ত তৈরি হয়। এবং গাছও উপড়ে যায়।
মাওবাদী বিরোধী অভিযানে বেরিয়েছিলেন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ডের সদস্যরা। তাঁরা বেরিয়েছিলেন একটি ভাড়া করা গাড়িতে। যে গাড়িতে সুরক্ষা ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না। উপদ্রুত এলাকায় যাওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে ব্যালাস্টিক সুরক্ষা থাকলেও সেখানে কিছুই ছিল না।
বিস্ফোরণের তীব্র দেখে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, গাড়িটি অন্তত কুড়ি ফুট ওপরে উঠে বিস্ফোরণ স্থল থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে আছড়ে পড়ে। ফলে গাড়িটির বিশেষ কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। বিস্ফোরণস্থলে যে গর্ত তৈরি হয়েছে, তা প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং ২০ ফুট চওড়া। এর থেকেও অনুমান মাওবাদীরা প্রচুর বিস্ফোরক সেখানে রেখেছিল।
বুধবার যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তিন রাজ্যের সংযোগস্থল। ফলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাওবাদীরা জঙ্গলে ঢুকে গিয়েছে। মাওবাদী দমনে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করার পরেও এখনও পর্যন্ত কোনও সাফল্য পায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাওবাদীরা এলাকার নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতেই এই হামলা চালিয়েছে। কেননা নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে মাওবাদীরা অনেকটাই পিছু হটেছে। একের পর এক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী সাফল্য অর্জনও করেছে। সরকারে পুনর্বাসন নীতি অনুসরণ করে ৪০০-র বেশি মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন বস্তার রেঞ্জের পুলিশ আধিকারিক। তিনি আরও দাবি করেছেন মাওবাদী নেতাদের অনেকেই এখন ছত্তিশগড়ের বাইরে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছে।
বুধবারের হামলার ঘটনার নিন্দা করে শোক প্রকাশ করে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন পুলিশ সদস্যদের ত্যাগ চিরকাল স্মরণ করা হবে। শোকাহত পরিবারগুলির প্রতি তিনি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে হামলার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের সঙ্গে কথা বলেছেন।
সপ্তাহখানেক আগে বিজাপুরের কংগ্রেস বিধায়কের কনভয়ে গুলি চালায় মাওবাদীরা। জনসভা থেকে ফেরার সময় মাওবাদীরা গুলি চালায়। বিধায়কের সঙ্গে ছিলেন এক পঞ্চায়েত সদস্যও। মাওবাদীদের শেষ বড় হামলার ঘটনাটি হয়েছিল ২০২১-এর এপ্রিলে। সেই সময় বিজাপুর ও সুকমার মধ্যবর্তী এলাকায় মাওবাদী হামলায় ২২ জন নিরাপত্তা রক্ষীর প্রাণ গিয়েছিল।
