
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃপ্রায় নয় একর জমি বেআইনি ভাবে দখল করেছেন হেমন্ত সোরেন। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ তুলেছে ইডি। ঝাড়খণ্ডের জমি দুর্নীতির সেই মামলায় এ বার কেন্দ্রীয় সংস্থা চার্জশিট জমা দিয়েছে। তাতে অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছে হেমন্তের নাম। সঙ্গে আরও তিন জনের নাম জুড়েছে ইডি। কী ভাবে হেমন্ত জমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছেন, তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে চার্জশিটে।
কেন্দ্রীয় এজেন্সি আগেই দাবি করেছিল যে, এই জমি দুর্নীতি মামলা অন্তত ৬০০ কোটি টাকার। হেমন্তের দিল্লির বাসভবন থেকে ৩৬ লক্ষ নগদ টাকা এবং একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি আগেই বাজেয়াপ্ত করেছিল তাঁরা। এ বার ইডি বাজেয়াপ্ত করেছে ২৫৬ কোটি টাকার ‘বেআইনি’ সম্পত্তি।
একই সঙ্গে, চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, এই দুর্নীতিতে হেমন্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রেভিনিউ অফিসার ভানুপ্রতাপ সহ আরও দুজন সরকারি আধিকারিক। ইডির দাবি, ভানুপ্রতাপ বিভিন্ন জমির সরকারি দলিল নয়ছয় করতেন। আর হেমন্তকে বেআইনি জমি পাইয়ে দিতে সাহায্য করতেন তাঁর ঘনিষ্ঠ তিনজন। তাদের নাম, রঞ্জিৎ সিংহ, হিলারিয়াস কছপ এবং রাজকুমার।
ভানুপ্রতাপের অফিসে তল্লাশি চলাকালীন ইডি ৪৪ পাতার একটি ফাইল খুঁজে পেয়েছে। তাতে হেমন্তের জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।সেখানে তাঁকে যে 'বস' বলে ডাকা হত, এমন উল্লেখও আছে! কেন্দ্রীয় সংস্থা এও জানতে পেরেছে, ৮.৮৬ একর জমি বেআইনিভাবে নিজের নামে করেছেন হেমন্ত। বর্তমানে এই জমির দাম প্রায় ৩১ কোটি টাকা, যা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
গ্রেফতার হওয়ার আগেই অবশ্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন হেমন্ত। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন চম্পই সোরেন। তবে ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর 'হার না মানা'র বার্তা দিয়েছিলেন হেমন্ত। এমনকী কবি শিবমঙ্গল সিং সুমনের একটি পংক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অনুগামীদের উদ্বুদ্ধ করারও চেষ্টা ছিল তাঁর। কিন্তু এখন ইডি তাঁর বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ আনছে তাতে তিনি যে আরও চাপে পড়লেন তা অস্বীকার করা যায় না।
