
দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ তুরস্ক-ফিরিয়ার ত্রাস এখনো কাটে নি। এর মধ্যে বুধবার ভোরে তুরস্ক আবার কেঁপে ওঠে। ওদিকে আফগানিস্থান সহ চিনের কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়। একই দিনে অর্থাৎ বুধবার বেলা দেড়টা নাগাদ দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডের বিশাল অংশ কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি মোটেই অনুকূল নয়। এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ভু-বিজ্ঞানীরা বলছেন, অদূর ভবিষ্যতে ভারতে বড়ো-সরো ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় টেকটনিক প্লেট প্রতিবছর ৫ সেমি করে সরে যাচ্ছে। এর ফলেই উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ বড় ভূমিকম্পের মধ্যে পড়তে পারে। হায়দরাবাদের ন্যাশনাল জিওফিজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী এবং ভূকম্পবিদ এন পূর্ণচন্দ্র রাও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানিয়েছেন, পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন প্লেট গতিশীল। বাদ নেই ভারতীয় প্লেটও। এর ফলে হিমালয়ের ওপরে চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাবধানতা নিতে হবে।
এই মুহূর্তে ভারতের সিগমোগ্রাফ স্টেশনগুলোর আধিকারিক ও কর্মীরা খুব ব্যস্ত। উত্তরাখণ্ডে ১৮ টি সিসমোগ্রাফ স্টেশনের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে ভারতের। সিসমোগ্রাফ স্টেশন রয়েছে হিমাচল প্রদেশেও। বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ছাড়াও নেপালের পশ্চিম অংশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পের বিপদ রয়েছে। প্রকৃতি তো দেশের ভৌগোলিক সীমা মনে না। তাই ভারতের উত্তরাংশ, নেপাল এমনকি পাকিস্থানের কিছু অংশে ভূমিকম্প হতে পারে। ভারতের কিছু অংশে ৭.৫এ- বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইআইটির অধ্যাপক জাভেদ মালিক। আগামী এক-দুই বছর থেকে এক-দুই দশকের মধ্যে এই ভূমিকম্প হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হিসেবে তিনি আন্দামানের পাশাপাশি হিমালয়ের কথা বলেছেন। এসব এলাকার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আইআইটির সমীক্ষক দলের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ৫৯ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্প প্রধান অঞ্চলে অবস্থিত। তাই ওই সমস্ত অঞ্চলে বাড়ি নির্মাণের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
