
নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর: জম্মু ও কাশ্মীরে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল অসাংবিধানিক নয় বলেই সোমবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, যত দ্রুত সম্ভব জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচন করাতে হবে সেখানে। তার সময়সীমাও বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করাতে হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
শীর্ষ আদালতের এদিনের রায় শুনে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ জানান, তিনি হতাশ। তবে আশাহত হননি। ওমরের কথায়, ‘‘আমি হতাশ। তবে আশাহত নই। আমাদের লড়াই জারি থাকবে। বিজেপির এই জায়গায় পৌঁছতে বহু বছর সময় লেগেছে। আমরাও দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’’ কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম বলেছেন, "আমি আশা করছি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেবে এবং জনগণকে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ দেবেন।" কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, "কেন্দ্রের উচিত যত দ্রুত সম্ভব জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন করা এবং পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা।"
সোমবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়ে দিয়েছেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল অসাংবিধানিক নয়। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত বৈধ ছিল। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, অনুচ্ছেদ ৩৭০-এ জম্মু ও কাশ্মীরকে যে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তা সাময়িক। কাশ্মীরে সংবিধান সভা বাতিল হয়ে যাওয়ার পরেও রাষ্ট্রপতির ওই অনুচ্ছেদ বাতিল করার অধিকার ছিল। ফলে যা হয়েছে, তা অসাংবিধানিক নয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দিতে হবে। তবে লাদাখ কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলই থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কউল জানান, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এক মত। কাশ্মীরে সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে বিচারপতি কল বলেন, ‘‘শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা সেনার কাজ। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তাদের কাজ নয়। কাশ্মীরে সেনা ঢোকায় তার কঠিন মূল্য দিতে হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।’’
