
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সিনেমা হলের রূপালি পর্দা থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ডিজিটাল স্ক্রিন—বলিউড তারকাদের রাজত্ব এখন সর্বত্র। এক সময় তারকারা কেবল সিনেমার পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, এখন ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের একটি পোস্ট থেকেই তাঁরা কোটি কোটি টাকা পকেটে পুড়ছেন। ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে এই তারকারা এখন প্রতি সপ্তাহে যে পরিমাণ আয় করছেন, তা অনেক মেগা-বাজেট সিনেমার আয়ের সমান। ফ্যান-ফলোয়িংকে ব্যবসায়িক মূলধনে রূপান্তরিত করার এই কৌশল বিনোদন জগতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছে।
কমেডি দুনিয়ার জনপ্রিয় মুখ ভারতী সিং এই তালিকায় অন্যতম। কয়েক বছর আগে ইউটিউব চ্যানেল চালু করার পর ধীরে ধীরে সেটিই তার আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তার মোট আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে ইউটিউব থেকে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামে তার ৯০ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ব্র্যান্ড প্রোমোশনের মাধ্যমে তিনি প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করেন। নিয়মিত ভ্লগ ও মজার ভিডিওর মাধ্যমে তিনি প্রতি সপ্তাহেই বিপুল অঙ্কের অর্থ রোজগার করছেন। তার সহজ-সরল স্বভাব ও রসবোধ ডিজিটাল দুনিয়ায় তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
পরিচালক ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানও সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সফল। ২০২৪ সালে ইউটিউব যাত্রা শুরু করলেও খুব অল্প সময়েই তার চ্যানেল বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে শেফ দিলীপের সঙ্গে করা রান্নার ভ্লগগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবারের এই চ্যানেল থেকে ফারাহ এখন এমন আয় করছেন, যা তার কথায়, চলচ্চিত্র জগতের আয়ের থেকেও বেশি। ইনস্টাগ্রামেও তিনি সমানভাবে সক্রিয় এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ড চুক্তি থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আয়ের নিরিখে অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিও প্রথম সারির নাম। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি। যোগব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা ও পারিবারিক ভ্লগের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। আনুমানিক হিসাবে তার বার্ষিক সোশ্যাল মিডিয়া আয় ২ থেকে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ থেকে ২৫ কোটি টাকা। ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে ব্র্যান্ড প্রোমোশন থেকেই প্রতি পোস্টে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেন।
বলিউডের শীর্ষ অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সোশ্যাল মিডিয়ায়ও সমান প্রভাবশালী। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা ৮ কোটিরও বেশি। প্রতি স্পন্সরড পোস্টের জন্য তিনি প্রায় ৮৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। যদিও তিনি ইউটিউবেও কন্টেন্ট শেয়ার করেন, তবে ইনস্টাগ্রামই তার আয়ের প্রধান উৎস। নামী ব্র্যান্ড যেমন ল’ওরিয়াল ও মেকমাইট্রিপের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করে তিনি প্রতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছেন।
এই তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা শহীদ কাপুরও। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটির বেশি। ফ্যাশন, ফিটনেস ও পারিবারিক ছবি পোস্ট করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রতিটি স্পন্সরড পোস্টের জন্য শহীদ ২০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেন। যদিও ইউটিউবে তার উপস্থিতি সীমিত, তবে ইনস্টাগ্রামই তার ডিজিটাল আয়ের মূল ভরসা। আকর্ষণীয় লুক ও স্টাইলের কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি একজন বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন।
