
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আমরা যখন পকেট থেকে স্মার্টফোনটি বের করি, তখন খুব কমই ভাবি এই ব্র্যান্ডগুলোর নামকরণের ইতিহাস কতটা গভীর। স্যামসাং বা অ্যাপলের মতো নামগুলো আজ আমাদের কাছে স্রেফ প্রযুক্তি পণ্য, কিন্তু একসময় এগুলো ছিল এক একটি স্বপ্ন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ক্যালিফোর্নিয়া—প্রতিটি নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রতিষ্ঠাতা ও তাঁদের সংস্কৃতির ছোঁয়া। স্যামসাং কেন নিজেকে 'তিন তারা' হিসেবে কল্পনা করেছিল, আর স্টিভ জোবস কেন একটি সাধারণ ফলকে প্রযুক্তির শিখরে বসিয়েছিলেন—এই নামকরণের রহস্যগুলো জানলে আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য এই যন্ত্রটির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়।
স্যামসাং (Samsung)– শুরু করা যাক স্যামসাং (Samsung) দিয়ে। কোরিয়ান এই শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো ‘তিনটি তারা’। প্রতিষ্ঠাতা লি ব্যুং-ছুল যখন কোম্পানিটি শুরু করেন, তাঁর স্বপ্ন ছিল এটি আকাশের তারার মতোই বিশাল এবং চিরস্থায়ী হবে তাঁর ব্র্যান্ড। সেই থেকেই এই নক্ষত্রখচিত নামকরণ।
শাওমি (Xiaomi)– চিনা ব্র্যান্ড শাওমি (Xiaomi) নামকরণের পেছনে রয়েছে বৌদ্ধ দর্শনের ছোঁয়া। এর অর্থ ‘ক্ষুদ্র চাল’। প্রতিষ্ঠাতা লেই জুনের মতে, চাল যেমন মানুষের কাছে অতি প্রয়োজনীয়, তেমনই প্রযুক্তিও যেন সাধারণ মানুষের কাছে ঠিক ততটাই সহজলভ্য আর পুষ্টিকর হয়।
‘অ্যাপল’ (Apple)- আইফোন প্রেমিদের প্রিয় ‘অ্যাপল’ (Apple)-এর গল্পটা কিন্তু বেশ সোজাসাপটা। স্টিভ জবস একবার এক আপেল বাগান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরেই তাঁর মনে হয়, নামটি বেশ প্রাণবন্ত আর মজার। খুব একটা জটিল টেকনিক্যাল নাম না রেখে স্রেফ একটা ফলের নামেই তিনি বাজিমাত করতে চেয়েছিলেন।
নোকিয়া (Nokia)- এই নামটি কিন্তু কোনও প্রযুক্তির শব্দ নয়। ফিনল্যান্ডের এক খরস্রোতা নদী ‘নোকিয়ানভির্তা’-র তীরে গড়ে ওঠা ছোট্ট এক শহর থেকেই এই ঐতিহাসিক নামটির উৎপত্তি।
সোনি (Sony)- জাপানি এই ব্র্যান্ডের জন্ম ল্যাটিন শব্দ ‘সোনাস’ থেকে, যার অর্থ হল আওয়াজ বা শব্দ। পঞ্চাশের দশকে জাপানে তরুণদের ‘সোনি বয়’ বলে ডাকার একটা চল ছিল, সেই স্মার্টনেস থেকেই এই নাম।
অপো (Oppo)- ‘অপো’ শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ ‘অ্যাপোর্টার’ থেকে, যার মানে হল কোনও কিছুকে কাছে টেনে আনা।
ভিভো (Vivo)-‘ভিভো’ একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ ‘বেঁচে থাকা’।
মোটোরোলা (Motorola)- গাড়ির ইংরেজি ‘মোটর’ আর তৎকালীন জনপ্রিয় সাউন্ড সিস্টেম ‘ভিক্টোরোলা’—এই দুইয়ে মিলেই তৈরি হয়েছিল এই আইকনিক নাম।
