
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সংঘাতের আবহ যত ঘনীভূত হচ্ছে, তার প্রভাব ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন স্তরে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যেই থমকে যায় তথ্য আদানপ্রদান। স্মার্টফোন থাকা সত্ত্বেও তা কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই প্রযুক্তি দুনিয়ায় তৈরি হয়েছে কিছু বিশেষ অফলাইন অ্যাপ, যা ইন্টারনেট ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম। এই ধরনের অ্যাপগুলি ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ডাইরেক্ট বা মেশ নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য পৌঁছে দিতে পারে। ফলে ইন্টারনেট না থাকলেও জরুরি বার্তা বা তথ্য সহজেই আদানপ্রদান করা সম্ভব হয়।
১। অরগ্যানিক ম্যাপ: এটি বিনামূল্যের, বিজ্ঞাপনমুক্ত জিপিএস নেভিগেশন অ্যাপ, যা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই সম্পূর্ণভাবে কাজ করে। ‘ওপেন-সোর্স’ প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই অ্যাপটি গাড়ি চালানো, সাইকেল চালানো এবং রাস্তাঘাটে হাঁটাচলা করার জন্য সহায়ক। মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেলেও, জিপিএস স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই অ্যাপটি কাজ করতে থাকে।
২। ব্রিজফাই: এটি একটি মেসেজিং অ্যাপ। ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এর মাধ্যমে বার্তা পাঠানো যায়। ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা মোবাইলগুলি এই অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ১২.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করেন। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় যখন ইউক্রেনে ইন্টারনেট পরিষেবা বিঘ্নিত হয়ে পড়েছিল, তখন সে দেশের নাগরিকরা এটি ব্যবহার করতেন। তবে অ্যাপটিতে প্রথমবার লগইন করার জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়।
৩। পকেটপ্যাল এআই: চ্যাটজিপিটির মতো এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক একটি অ্যাপ, যা ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না। অফলাইনেই এই অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি যে কোনও তথ্য জেনে নিতে পারেন। এটি ফাই, জেমা ২ এবং কুয়েন-এর মতো এআই মডেলগুলিকে সাপোর্ট করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলি শুধুমাত্র সুবিধা নয়, বরং নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। ইন্টারনেটহীন অবস্থাতেও যাতে যোগাযোগ বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে নতুন প্রযুক্তির এই প্রয়াস।
