
বালি, হাওড়া: প্রযুক্তি বিপ্লবের কেন্দ্র আর শুধু কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ বা পুনের মতো বড় শহর নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল মার্কেটিং এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের হাত ধরে হাওড়ার বালি থেকেও তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করার নতুন সুযোগ। সেই পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উঠে আসছে প্রযুক্তি সংস্থা THATWARE LLP।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ডঃ তুহিন বণিকের উদ্যোগে গড়ে ওঠা THATWARE AI-কেন্দ্রিক ডিজিটাল মার্কেটিং, সার্চ ইন্টেলিজেন্স এবং SEO পরিষেবা নিয়ে কাজ করছে। সংস্থার শিকড় হাওড়ায় থাকলেও তাদের কাজের পরিধি ভারত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংস্থার যাত্রাপথের সূত্রপাত ২০১৫ সালে তুহিন বণিকের প্রাথমিক প্রযুক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে। ২০১৬ সালে ভার্চুয়াল কোম্পানি/A2Z feeds পর্যায়ের পর ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে THATWARE-এর পথচলা শুরু হয়। ২০১৯ সালে THATWARE LLP হিসেবে সংস্থাটি অন্তর্ভুক্ত হয়।
বর্তমানে সংস্থাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (SEO), সেম্যান্টিক সার্চ, ডেটা-নির্ভর ডিজিটাল মার্কেটিং, Large Language Model (LLM) Optimization এবং AI-নির্ভর সার্চ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলে সংস্থার দাবি।
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও CEO তুহিন বণিকের পেশাগত আগ্রহের অন্যতম ক্ষেত্র AI, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, সেম্যান্টিক সার্চ এবং আধুনিক SEO প্রযুক্তি। তাঁর উদ্যোগে ThatWare এমন এক ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি পরিসর তৈরির লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও conversational search ক্রমশ তথ্য অনুসন্ধানের ধরনকে বদলে দিচ্ছে।
সংস্থার CEO-এর দাবি, বর্তমানে THATWARE-এ ২০০-রও বেশি পেশাদার কর্মী কাজ করছেন। SEO, কনটেন্ট, প্রযুক্তি, ডিজিটাল মার্কেটিং, অ্যানালিটিক্স এবং AI-সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত এই পেশাদারদের একটি অংশ হাওড়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। ফলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নিজের এলাকায় থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
THATWARE-এর কর্মসংস্কৃতিতে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে সংস্থার বক্তব্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল—কাজের জন্য সবসময় বড় শিল্পাঞ্চল বা মহানগরের উপর নির্ভর করতে হয় না। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর মাধ্যমে হাওড়ার মতো এলাকার একজন তরুণও দেশের বা বিদেশের কোনও প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
হাওড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বহু তরুণ-তরুণীকে কর্মসংস্থানের জন্য কলকাতা কিংবা দেশের অন্যান্য বড় IT কেন্দ্রে পাড়ি দিতে হয়। সেই পরিস্থিতিতে বালির মতো এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থার উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিসর তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
AI এবং Generative AI-এর দ্রুত প্রসারের সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার এই বিকেন্দ্রীকরণ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও সামনে আনছে। স্থানীয় প্রতিভা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজার—এই তিনের সমন্বয়ে ছোট শহর বা আধা-শহুরে অঞ্চল থেকেও বিশ্ববাজারে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
THATWARE-এর যাত্রাপথ সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বালি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পরিষেবার বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরির এই প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের AI-নির্ভর অর্থনীতিতে প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ শুধু দেশের বড় শহরগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।হাওড়ার বালিতে তৈরি হওয়া এই প্রযুক্তি-কেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের পরিসর আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হলে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তার প্রভাব বৃহত্তর অঞ্চলেও পড়তে পারে।
