
কলকাতা, ২ নভেম্বর : অফলাইন রেজিস্ট্রেশনের জন্য নেওয়া টাকা লোক পাঠিয়ে সংগ্রহ করতেন মানিক ভট্টাচার্য। এই তথ্য দিয়েছেন মানিকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত তাপস মণ্ডল। বুধবার এই অফলাইন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব দিতে ইডির দফতরে গিয়েছিলেন তাপস। সেখানেই প্রাথমিকের শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন তিনি।
কার কাছে যেত সেই টাকা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাপস মণ্ডল বলেন, "নিশ্চয়ই উনি লোক পাঠাতেন মানে ওনার কাছেই যেত।" কে পাঠাতেন, উনি বলতে কাকে বোঝাতে চাইছেন তিনি? প্রশ্ন করায় উত্তর এল, "মানিক বাবু।"
বুধবার দুপুর প্রায় পৌনে ১২ টা নাগাদ ইডি অফিসে হাজিরা দেন তিনি। ইডি অফিসে ঢোকার আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তাপস মণ্ডল। তিনি জানালেন, “অফলাইনের (ভর্তির) যেগুলি বলেছিলাম, সেগুলি চেয়েছে… আমি দিতে যাচ্ছি।” শুধু তাই নয়, অফলাইনে ভর্তির টাকা মহিষবাথানে তাঁর অফিসে মানিক ভট্টাচার্যকে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাপস বাবু বলেন, “অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছিল। আমার স্টাফরা তাই বলেছে। স্টাফরা বলেছে, অফিস থেকেই ফাইল ও টাকা যেত।”
এই অভিযোগের কার্যত সিলমোহর দিয়েছে মানিকবাবুর বিরুদ্ধে আনা ইডির অভিযোগেই। ইডি সূত্রে খবর ছিল, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত তিনটি শিক্ষাবর্ষে মানিকবাবু টেট পরীক্ষায় বসতে ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রীদের থেকে নিয়মিত ভাবে টাকা নিয়েছেন। মূলত টেট পরীক্ষায় বসার জন্য যে ডিএলএড প্রশিক্ষণ নিতে হয় সেই প্রশিক্ষণে অফলাইনে ভর্তির জন্যই নেওয়া হত ওই অর্থ।
ইডি জানিয়েছিল, প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক যে সমস্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত তারিখে রেজিস্ট্রেশন করাতে পারতেন না, তাঁদেরকেই অফলাইনে নাম নথিভুক্তির ব্যবস্থা করে দিতেন মানিকবাবু। বিনিময়ে মাথাপিছু ৫০০০ টাকা করে নিতেন তিনি। এই ভাবে মানিকবাবু আনুমানিক ২০ কোটি টাকা তুলেছিলেন বলে জানিয়েছিল ইডি।
বুধবার ইডির সেই অভিযোগকেই একরকম মান্যতা দিয়ে মানিক ‘ঘনিষ্ঠ’ তাপস বললেন, টাকার লেনদেন হত মহিষবাথানের অফিসে। সেখান থেকে স্টাফ বা কর্মী পাঠিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন মানিকবাবুই। তবে মানিকবাবুর সংগৃহীত সেই অর্থ তার পর কোথায় যেত তা তিনি জানেন না।
