
কলকাতা, ১৫ নভেম্বর : উচ্চপ্রাথমিকে নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ। কর্মশিক্ষার শিক্ষক নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ৭৫০টি শূন্যপদে নিয়োগে ‘না’ বিচারপতির। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপেও তাঁর নিষেধাজ্ঞা। আগামী পরশু পরবর্তী শুনানি। যদিও কমিশন জানিয়েছে, আজ তাদের অফিস বন্ধ, ফলে নিয়োগ পত্র দেওয়ার প্রশ্ন-ই নেই। নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির পাশাপাশি, কীভাবে তৈরি হয়েছে অপেক্ষা-তালিকা? তাও জানতে চায় আদালত। এই রায়ে আটকে গেল প্রায় ৭৫০ জনের চাকরি। কীসের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল, এসএসসির কাছে তা জানতে চেয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার। ততদিন পর্যন্ত কোনও চাকরিপ্রার্থীকে সুপারিশপত্র দিতে পারবে না স্কুল সার্ভিস কমিশন।
২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৭ এ লিখিত পরীক্ষা এবং ২০১৮ এ ইন্টারভিউ হয়। চলতি বছরের অক্টোবরে ওই পরীক্ষার ভিত্তিতে কর্মশিক্ষক ও শারীরশিক্ষকদের অতিরিক্ত পদ তৈরি করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে এসএসসি। এরপর প্রকাশিত হয় প্রকাশিত অপেক্ষা-তালিকা। কিন্তু সেই তালিকা থেকেই অভিযোগ ওঠে। সোমা রায় নামে এক চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ, তাঁর চেয়ে কম নম্বর পাওয়া পরীক্ষার্থীর নাম রয়েছে অপেক্ষা-তালিকায়। এই মর্মে তিনি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলায় শুনানি ছিল মঙ্গলবার। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চ কমিশনের কাছে জানতে চায়, কীসের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পদ তৈরি করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হল? তার জবাব না পাওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ এখনই চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না এসএসসি। মঙ্গলবার এসএসসির অফিস বন্ধ। তাই সেখান থেকে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্তারা। কর্মশিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হাই কোর্টের স্থগিতাদেশের জেরে প্রায় সাড়ে ৭০০ চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ নিয়ে ফের জট তৈরি হল।
হাই কোর্টে এসএসসি সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই ও সিটের অফিসারদের তলব করেছেন। জানতে চেয়েছেন, মোট কত ভুয়ো নিয়োগ হয়েছে। কীভাবেই বা এই নিয়োগ হল? তাও জানতে চান তিনি। এদিকে, টাকার বিনিময়ে চাকরি পাওয়া প্রায় ৪৫ জন প্রার্থীকে নিজাম প্যালেসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। তাঁদের নোটিসও পাঠানো হয়েছে।
