
পূর্ব মেদিনীপুর, ২ নভেম্বর : পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কোলাঘাটের অতনু গুছাইতের স্ত্রী মানসী গুছাইতকে প্রতারণার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করল তমলুক থানার পুলিশ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই বেশ হইচই পড়ে গিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে তমলুকের বাসিন্দা বিকাশ বেরা আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, অতনু গুছাইত, তার ভাই শান্তনু গুছাইত এবং অতনুর স্ত্রী মানসী গুছাইত দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এই টাকা নিয়েছেন তাঁদের বাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু বাড়ি বিক্রির পুরো টাকা মিটিয়ে দিলেও, অতনু গুছাইত রেজিষ্ট্রেশন করছিলেন না।
পরে বিকাশ বেরা জানতে পারেন, সমবায় ব্যাঙ্কের কোলাঘাট শাখায় বাড়িটি আগে থেকেই বন্ধক রয়েছে। এর পর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বিকাশ অতনুদের চাপ দিলে তাঁকে মোট চারটি চেকে ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত দেন অতনু। কিন্তু চেকগুলি বাউন্স করে। তখন বিকাশবাবু আইনের দ্বারস্থ হয়।
তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইত ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামেও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে সরব হয়েছেন একঝাঁক চাকরিপ্রার্থী। অতনু সপরিবার এলাকাছাড়া। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেছিলেন, ‘‘আর্থিক প্রতারণার প্রতিটি অভিযোগেই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।’’
অতনু গুছাইতের স্ত্রী মানসী গুছাইত। তিনি পাঁশকুড়ার একটি হাইস্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা। বরাবর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। এমনকী শিক্ষা দফতরের বিষয়ে অনেক খবর রাখতেন তিনি। সেটি কাজে লাগাতেন মানসী দেবী বলে সূত্রের খবর। থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই মঙ্গলবার রাতে তিনি স্কুলে এলে তমলুক থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেন। আর্থিক প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ –সহ একাধিক ধারায় মানসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোলা গ্রামের বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের অতনু গুছাইত এক সময় কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ছিলেন। দু’বার কোলা ১ পঞ্চায়েতের প্রধানও হন। অতনু ও তাঁর ভাই শান্তনু (ডাক নাম লাল) বিশেষ কাজকর্ম না করলেও তাঁদের পেল্লায় বাড়ি। বাড়ির সামনে দুর্গাপুজোয় কলকাতা ও মুম্বইয়ের শিল্পীদের এনে জলসাও করতেন দুই ভাই।যদিও অতনুকে দলের কেউ বলে এখন মানতে নারাজ তৃণমূল। দলের কোলাঘাট ব্লক সভাপতি অসিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দলের সঙ্গে ওঁর দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই। উনি কী করেছেন কিছু জানি না।’’
